মেহেন্দিগঞ্জে পাঁচ খুন দুই ভাইয়ের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন ডেক্স রিপোর্ট
অবশেষে কার্যকর হল বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার খলিসার উত্তরপাড় গ্রামে মা ও চার সন্তান হত্যা মামলার কাঙ্খিত রায়। এ রায়ে দুই ভাই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবংঅবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মৃতুদণ্ডপ্রাপ্তরা।
মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে বরিশাল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ মতিয়ার রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে নিহত তানজিরা বেগমের আপন ভাই মোঃ শাহজাহান বৈরাগী (৫৫) ও শহীদুল ইসলাম শাহেদ বৈরাগী (৫০)। এদের মধ্যে শাহজাহান বৈরাগী জামিনের পর থেকে পলাতক রয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে মোঃ সুলতান খাঁ, মোঃ কাইউম খাঁ, আবুল বাশার ওরফে বাদশা খাঁ।
খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চুন্নু, মোঃ ফরহাদ হোসেন লাবু, আনিচ মাতুব্বর, জামাল চৌকিদার ও করিম হাওলাদার।
মামলর নথির বরাত দিয়ে আদালতের পিপি গিয়াসউদ্দিন কাবুল জানান, ২০০৮ সালের ৩০ জুন রাত থেকে পরদিন ভোর ৫ টার মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচর ইউনিয়নের খলিশার উত্তরপাড় এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারীর বসতঘরের সিদ কেটে ও দরজা ভেঙ্গে তানজিয়া বেগম, আঞ্জুমান, সাথী, জান্নাত ও ফেরদৌসকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে।
তাৎক্ষনিক নিহতদের কোন স্বজন থাকায় এলাকার চৌকিদার নুরুজ্জামান বাদি হয়ে ২০০৮ সালের ১ জুলাই অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে- নিহত তানজিয়ার ভাইদের সঙ্গে বাড়ির অন্য শরিকদের বিরোধ ছিল। তাই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তানজিয়ার আপন দুই ভাই শাহজাহান বৈরাগী ও শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ বৈরাগী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।
২০০৯ সালের ১৯ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন কাজীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আনোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে গ্রেপ্তারকৃত শাহজাহান, শাহেদ সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
বিচারক ৫১ পৃষ্ঠার রায়ে আরো উল্লেখ করেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে কোন চাক্ষুষ কোন স্বাক্ষী না থাকলেও ঘটনার আগে পরে আসামিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকে স্বাক্ষী দিয়েছেন।’
‘শাহজাহান বৈরাগী ও শাহেদ বৈরাগীর আপন বোন ও চার ভাগ্নি হত্যা হলেও তাদের মধ্যে বিকার ছিলনা। তারা নিরব ছিলো। স্থানীয় থানায় জিডি কিম্বা মামলাও করেনি তাঁরা। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। আর ঘটনার আগে পরে তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র দেখেছিলেন স্বাক্ষীরা।’
‘কাইউম খাঁ ও সুলতা খাঁ, বাদশা খাঁ এদের কাছ থেকে তাদের রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ থেকে আদালত আরো স্পষ্ট হয় ঘটনার সঙ্গে তারাও সম্পৃক্ত ছিলো।’
‘সর্বপোরী ওই শাহাজাহান বৈরাগী গ্রেপ্তারের পর শত শত লোকের সামনে তার অপরাধ স্বীকার করে। আসামিরা এক পর্যায়ে নিজেদের দোষ ঢাকতে তানিয়া বেগম নামক এক স্বাক্ষীকেও মারধর করে। এসব থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কারা।’
৫৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৪২ জনের স্বাক্ষগ্রহণ শেষে আদালত উপরোক্ত দণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মোঃ শাহজাহান বৈরাগী ছাড়া সকলে উপস্থিত ছিল আদালতে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনায়েত পীর আমাদের বরিশাল ডটকম’কে জানান, এ রায়ে তাঁরা সন্তুস্ট নয়। উচ্চ আদালতে আপীল করার প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গিয়াস উদ্দিন কাবুল আমাদের বরিশাল ডটকম’কে বলেন, এ রায় ন্যায বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ থেকে রাষ্ট্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ পাবে।
|