বাকসু’র সংবিধান সংশোধন করে অনিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষের কর্ম পরিষদ গঠন!
 অস্থায়ী ছাত্র কর্ম পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ ননী গোপাল দাস (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরিশাল :: বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র সংবিধান সংশোধন করেই তরিঘরি করে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিয়ে বিকল্প ছাত্র কর্ম পরিষদ গঠন করলেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস। আজ ২০ জুন বিএম কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের জরুরী সভায় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিয়ে ২৬ সদস্যের কর্মপরিষদ ঘোষণা করে সাথেসাথেই শপথ বাক্য পাঠ্য করানো হয়। ছাত্রলীগের একাংশ এবং ছাত্রদল-শিবির নেতারা গঠিত কর্মপরিষদকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে বলেছেন, কলেজের কোটি কোটি টাকা লোপাটের জন্য এ পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে ২৬ সদস্যের মধ্যে কয়েকজন এ কর্ম পরিষদকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে শপথ গ্রহন করা থেকে বিরত থাকে।
এ কর্মপরিষদে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ন আহ্বায়ক মইন তুষারকে ভিপি, অপর যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ নাহিদ সেরনিয়াবাতকে জিএস এবং ছাত্রলীগ কর্মী সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবীদকে এজিএস’র দায়িত্ব দেয়া হযেছে। এদের সকলেই বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আশির্বাদধন্য বলে পরিচিত। কর্মপরিষদের অপর ২৩টি সদস্য পদের মধ্যে ছাত্রমৈত্রীর ২জন এবং জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রসমাজের একজন করে প্রতিনিধি রেখে এ কর্মপরিষদকে নামেমাত্র সর্বদলীয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ বাকসু’র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যদি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরিস্থিতি না থাকে তাহলে জরুরী পরিস্থিতিতে কলেজের নিয়মিত ছাত্রদের দ্বারা অস্থায়ী কর্ম পরিষদ গঠন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে কলেজের সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু যে অস্থায়ী কর্ম পরিষদ গঠন হয়েছে তাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কোন প্রতিনিধি নেই এবং এ কর্মপরিষদের ভিপি ও জিএস বিএম কলেজের নিয়মিত ছাত্র নন।
এ ব্যাপারে কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সম্পাদক অধ্যাপক কাইয়ুম উদ্দিন আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, কর্মপরিষদের বৈধতার জন্য বাকসুর সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এদিকে অস্থায়ী ছাত্র কর্ম পরিষদ গঠনের জন্য বাকসু’র সংবিধান পরিবর্তন করায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস জানিয়েয়েছেন, ২৬ জনকে সদস্য করে ৩ মাসের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এ কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে ভিপি-জিএস-এজিএস ও অন্যান্য সম্পাদক পদ বন্টন করা হয়েছে।
কলেজ সুত্রে জানা গেছে, মইন তুষার-নাহিদ সেরনিয়াবাতসহ কিছু ছাত্রলীগ ক্যাডার বাকসু নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন করার নামে একাধিকবার কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা, সড়ক অবরোধসহ সহিংস ঘটনা ঘটায়। অন্যদিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক রফিক সেরনিয়াবাতের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একাংশ নির্বাচন প্রশ্নে নিরব এবং ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছাত্রদল-শিবির নির্বাচনের বিরোধীতা করায় নির্বাচনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় ক্ষমতাবান অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৯ জুন থেকে মনোনিত প্রতিনিধির মাধ্যমে কর্মপরিষদ গঠনে তৎপর হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টাফ কাউন্সিলের সভায় ২৬ সদস্যের নাম ঘোষণা করে তরিঘরি করে বেলা ১২টায় শিক্ষক মিলনায়তনে নেতৃবৃন্দকে শপথ পাঠ করান কলেজ অধ্যক্ষ অস্থায়ী কর্মপরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নজরুল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক এসএম কাইউম হোসেন ও শিক্ষক ক্লাবের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক।
এদিকে নবগঠিত এ কর্মপরিষদের সহ-সাহিত্য সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিশির, সমাজ সেবা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেরনিয়াবাত অনিক, সহ-পরিবহন সম্পাদক মাহাদি হাসান বাবু সেরনিয়াবাত ও নির্বাহী সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান সেরনিয়াবাত এ কমিটিকে পকেট কমিটি অভিহিত করে শপথ গ্রহনের সময় অনুপস্থিত থাকেন।
এদিকে ছাত্রলীগের একটি অংশের নেতৃত্বদাতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত জানান, বিএম কলেজ ছাত্রসংসদের সংবিধানকে লঙ্ঘন করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের হুমকি দেন।
ছাত্রদল নেতা বাকসুর সাবেক প্রচার সম্পাদক মুশফিকুল হাসান মামুন এ কমিটিকে পকেট কমিটি অভিহিত করে জানান, বাকসুর কোটি কোটি টাকা লুটপাটের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে নবগঠিত কমিটিতে থাকা সহ-সাহিত্য সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিশির সদ্য ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখান করে নির্বাচিত কমিটির দাবী জানান।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |