বরিশালে কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা, সেবাবঞ্চিত রোগীরা সাঈদ পান্থ

বরিশালের প্রায় তিনশ’ কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। বিভিন্ন ক্লিনিকে সেবার পরিবর্তে ঝুলছে তালা। যে কারণে এসব ক্লিনিক থেকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠির। তবে স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ার বিষয় মানতে নারাজ সিভিল সার্জন ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমান।
তিনি আমাদের বরিশাল ডটকম’কে জানান, ‘আগে এসব অভিযোগ ছিল, কিন্তু শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার পর এখন আর এই অবস্থা নেই।’
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার দশ উপজেলায় প্রস্তাবিত ৩১২ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬৯ টি নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। যার ২৬৬টি হস্তান্তর করা হয়েছে। শুধুমাত্র ইপিআই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে ২৭৩টি ক্লিনিকে। যেগুলো এখন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২৮টি বিষয়ে এসব ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে ফিরে আসছেন রোগীরা।
রোববার সকালে নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠী নসিমন কমিউনিটি ক্লিনিক ও কাশিপুর চৌহুতপুর রহিমা খাতুন কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেছে তালা ঝুলছে সেখানে।
বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের শোলনা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারি শাজেদা বেগম আমাদের বরিশাল ডটকম’কে বলেন, তাঁরা সকাল ৯ থেকে ১টা পর্যন্ত অফিস করেন। তারপরে আরো কোন রোগী আসেনা বলে তিনি জানান। যদিও তাদের অফিস সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
এক প্রশ্নে জবাবে স্বাস্থ্য সহকারী শাজেদা জানান, অফিস তালা বদ্ধ থাকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার। কারণ ওই দুই দিন টিকা দিতে বাড়ি বাড়ী যেতে হয় তাদের। আর এর ফলে সাধারণ মানুষ মনে করেন যে ক্লিনিক বন্ধ।
শাজেদা আরো জানান, প্রতি মাসের ১৫ তারিখ তাদের মিটিং করতে এফডব্লিউডি’তে যেতে হয়। ক্লিনিকের দায়িত্ব শুধু একজনের কাছে থাকায় সে সময়েও বন্ধ রেখে মিটিংয়ে যেতে হয়।
মুলাদী উপজেলার দক্ষিণ গলৌভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারি আইনুন নাহার বলেন, তাঁর ক্লিনিকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ জনের মত রোগী সেবা নিয়ে থাকে। রোগীদের ২৮ ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- পুষ্টি, গর্ভবতি চেকআপ, ডেলিভারী, টিকাদান ও কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবা।
তিনি বলেন, তাঁর ক্লিনিক তালা বদ্ধ থাকে না। নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ কাজীরচর এলাকার বাসিন্দা সেলিম ব্যাপারী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তিনি পাশ্ববর্তি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। কিন্তু সে সময় ক্লিনিক বন্ধ ছিল। যার কারণে সেখান থেকে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়।
বাবুগঞ্জ পূর্ব ভুতুরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাসার জানান, তাদের এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে কোন প্রকার সেবা পাওয়া যায়না। উল্টো চিকিৎসা দেবার নামে ৫ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিভিল সার্জন ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, পূর্বে স্বাস্থ্য সহকারীরা ঠিকমত আসতো না, তালা থাকতো। কিন্তু বেশ কয়েকজনের বেতন বন্ধ করার পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক |