রাজাপুরের পোনা নদী এখন মরা খাল, খনন জরুরি এস এম রেজাউল করিম (ঝালকাঠি)
 পোনা নদীর বর্তমান দৃশ্য
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের ঐতিহ্যবাহি পোনা নদী খননের অভাব ও স্লুইচ গেটের কারনে মরা খালে পরিনত হয়েছে।
নদীটি উপজেলার দক্ষিন রাজাপুরের আঙ্গারিয়া গ্রামের সত্যনগর এলাকার জাঙ্গালিয়া নদী থেকে শুরু করে আংগারিয়া, আলগী, জীবনদাসকাঠি, কৈবর্তখালী, গালুয়া, চাড়াখালি গ্রাম হয়ে ভান্ডারিয়ার কচানদী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এক সময়ে নদীর পলি মাটির কারনে কৃষকরা অধিক ফসল ফলাতো।জন্মাতো নানা প্রজাতির মাছ।
বর্তমানে নদীটি মরা খালে পরিনত হওয়ায় তীরবর্তী গ্রামগুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে।বিভিন্ন স্থান দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে পানি প্রবাহ।
নদী তীরের জীবনদাশকাঠি গ্রামের আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম হাওলাদার (৯০), মোকছেদ আলী (৯২) ও আবদুল মজিদসহ (৮৫) একাধিক মানুষ আমাদের বরিশাল ডটকম’কে জানান, প্রায় দেড়’শ বছর আগে এ নদীতে বড় বড় জাহাজ, ষ্টীমার, লঞ্চ ও পাল তুলে সাড়ি সাড়ি নৌকা চলতো। এমনকি তাদের মা বাবা তাদেরকে নদীতে পড়ে স্রোতে ভেসে যাবার ভয়ে বা কুমিড়ে নিয়ে যাবার ভয়ে ওই নদীর পাড়ে যেতে দিতো না।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বড় বড় মালবাহী জাহাজ ষ্টীমারসহ বিভিন্ন প্রকারের জলযান বরিশাল ঘুরে প্রথমে ধানসিঁড়ি হয়ে পোনা নদী দিয়ে কচা নদী পেরিয়ে খুলনা বন্দরে যেত।
এই পোনা নদী তখন চ্যানেল হিসাবে ব্যবহার করা হতো।
নদীতে খরস্রোত থাকায় প্রচুর পলি মাটি আসায় ধানসহ সকল প্রকারের ফসল ফলতো। এলাকার পুকুর ও ডোবায় প্রচুর পরিমানে দেশীয় মাছ পাওয়া যেত।
অথচ এখন পোনা নদীতে বর্ষা মৌসুমে হাটু পর্যন্ত পানি থাকে এবং শুকনা মৌসুমে আদৌ কোন পানি থাকে না। ফলে স্থানীয়রা ওই জমিতে বৃক্ষের বাগান এবং বসতবাড়ি নির্মান শুরু করেছে।
জীবনদাশকাঠির গ্রামের প্রবীন কৃষক আবদুল মজিদ জানান, ইংরেজি ১৯৫০ সালে পুরাতন গভীরতা বাদে নতুন ১০ ফুট গভীরতায় এ নদীটি খনন করা হয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পরে নামমাত্র কয়েকবার খনন করা হলেও পুর্বের যৌবন ফিরিয়ে আনতে না পাড়ায় নদীটি বর্তমানে মৃত।
তাই নদীটি দ্রুত খননের ব্যবস্থা করে কৃষি উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন এ নদী সংশ্লিষ্ট হাজারো কৃষক।
সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক |