ইতিহাস-ঐতিহ্য নলছিটির ঐতিহাসিক ‘চায়না কবর’ ডেস্ক রিপোর্ট

ঝালকাঠির নলছিটি বন্দরের পৌরসভার সন্নিকটে অন্তীম শয়নে শায়িত আছেন অজ্ঞাত পরিচয় এক চীনা ব্যবসায়ী। এটি স্থানীয়দের কাছে ‘চায়না কবর’ / ‘চীনা কবর’ নামেই পরিচিত। কবরটি নলছিটির গৌরবউজ্জ্বল ইতিহাসের নিদর্শন হিসেবে এখনও টিকে রয়েছে।
সুদূর অতীতে এই অঞ্চলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে নলছিটি বন্দরের পরিচিতি চীন পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। সেই সময়কালে নলছিটি অঞ্চলে বহিরাগত বিভিন্ন দেশের ব্যাবসায়ীদের আনাগোনা ছিলো নিত্য-নৈমিত্তিক।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলে লবণ ও সুপারির ব্যবসায় চিনা সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে জড়িত ছিলো। নলছিটি পুরান বাজারের নাম ছিল ‘চীনা বাজার’। তাদের অবস্থান সম্পর্কিত প্রমাণ হিসেবে বর্তমান নলছিটির বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কবরটিকে যথেষ্ট বলে কোনো কোনো গবেষক মনে করেন। আর সেই কারণে এই কবরের ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বৃহত্তর বরিশাল অর্থাৎ প্রাচীনকালের চন্দ্রদ্বীপ, সেলিমাবাদ, সৈয়দপুর, আওরঙ্গপুর, আজিমপুর প্রভৃতি পরগনা সমন্বয়ে ‘বুজুর্গ উমেদপুর’ নামে একটি জিলা গঠন করা হয়েছিলো। আঠারোশ একাত্তর সালে রাজস্ব আদায়ের নিমিত্তে বাংলা অঞ্চলকে পয়ত্রিশটি জিলায় ভাগ করা হয়। সম্ভবত এই সময়ে এই জিলার উৎপত্তি।
প্রাচীন বরিশালের নলছিটি সংলগ্ন বারৈকরণে একসময়ে ‘বুজুর্গ উমেদপুর’ জিলার সদর দফতর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। আর সেই কারণে বারৈকরণ নামে এই জিলা পরিচিতি লাভ করে। ব্রিটিশ শাসনামলে বারৈকরণ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হয়।
সতেরশ বিরানব্বই সালে সহকারী কালেক্টর ও সুন্দরবনের কমিশনার স্যামুয়েল মিডলটন বারৈকরণ থেকে প্রশাসনিক দপ্তর বাকেরগঞ্জে স্থানান্তরিত করেন। এই কারণে বারৈকরণের গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে এবং এক সময়ের ব্যস্ততম ভবনসমূহ ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়ে যায়।
বর্তমানে অতীতকালের এই জিলা সদর দপ্তরের সামান্য চিহ্নমাত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তারপরেও নলছিটির অদূরে বিলুপ্তির শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়ানো কয়েকটি মঠ-মন্দির, ধসে পড়া ভবন এবং কুঠিবাড়ি নাম ধারণ করে থাকা এলাকাটি প্রাচীনকালের জিলা সদর দপ্তরের পরিচয় বহন করে আসছে।
তথ্যসূত্র:
বৃহত্তর বরিশালের ঐতিহাসিক নিদর্শন – সাইফুল আহসান বুলবুল
সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক |