ভোলায় তরুণী নির্যাতনঃ আসামীদের বাঁচাতে মরিয়া প্রভাবশালী মহল
ভোলা, ১৯ ফেব্রুয়ারী (অচিন্ত্য মজুমদার/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে মনির মেম্বার ও ইউসুফ চেীকিদারের নেতৃত্বে এক তরুণীকে আটকে রেখে রাতভর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার ৩দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনার সাথে জড়িতদের বাঁচাতে পুলিশসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। ঘটনার পর থেকে নানা অজুহাতে পুলিশ থানায় মামলা নিতে না চাইলেও বিভিন্ন চাপের মুখে ১৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেলে মামলা নিতে বাধ্য হয়। তবে সেই মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত মনির মেম্বার ও ইউসুফ চৌকিদারসহ বাকীদেরকে কৌশলগতভাবে পুলিশ মামলা থেকে বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ভোলার বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে যাওয়া জঘন্যতম একটি ঘটনায় বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েছে পুলিশ ও প্রভাবশালীরা। তারা ঘটনার মূল নায়ক মেম্বার ও চেীকিদারদের বাঁচানোর জন্য অপচেস্টা চালাচ্ছে। বিচাঁরের পরিবর্তে ট্রার্মকার্ড হিসেবে ব্যাবহার করা হচ্ছে নির্যাতিতাকে। জানা গেছে, মামলার পর সকল আসামীরা এক প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের নেতার বাসায় বৈঠকে বসেন কি ভাবে এই ঘটনা থেকে বের হওয়া যায়। সেখানে মেয়েটিকে খারাপ বানিয়ে সব ম্যানেজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। অথচ পুলিশ তাদেরকে পাচ্ছে না। এভাবেই ভোলার সকল নির্যাতনের ঘটনাই পুলিশের সহযোগীতায় প্রভাবশালীরা চাঁপা দিচ্ছে। পার পাচ্ছে অপরাধীরা। সকলের সামনে ঘুরে বেড়ালেও ঘটনার তিন দিন পরও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এব্যাপারে ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবাশ্বের আলী আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি নিজে ডেকে এনে আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করিয়েছি। দায়েরকৃত মামলা নং ১৩/২০১২। মামলায় প্রতারক ফারুক ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম এবং আলমগীরকে আসামী করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামীরা আত্মগোপনে থাকায় তাদেরকে এখোনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি আমরা অচিরেই তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হব।’
প্রসঙ্গত, ফারুক নামে এক প্রতারক এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মত মেলামেশা করছে দীর্যদিন ধরেই। ১৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ফারুকের খোঁজে ওই তরুনি বাপ্তা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে তার বাড়ি গেলে ফারুকের ভাই জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীরসহ বাড়ির মারধোর করে এলাকার মেম্বার মনির হোসেন, চেীকিদার ইউসুফের হাতে তরুণীকে তুলে দেয়। এরপর বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে মেম্বার ও তার লোকজন রাতভর পাশবিক নির্যাতনের পর ঘটনাটির মিমাংসার কথা বলে তরুণীকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিত মেয়েটিকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে দিকে মেয়েটির বড় ভাই বাদী হয়ে ফারুক ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম এবং আলমগীরকে আসামি করে ১৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাতে ভোলা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু কৌশলে নির্যাতনের ঘটনার প্রধান হোতাদেরকে পুলিশ মামলা থেকে বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে এ পাশবিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ডিফেন্ডার ফোরামের সভাপতি মোবাশ্বের আলী, মানবাধিকার সংস্থার পক্ষে মোঃ আফজাল হোসেনসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনগুলো। তারা দ্রুত এঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করেছেন।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |