লালমোহনে টর্নেডোঃ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, আহত ৩০
 টর্নেডোয় ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে একটি পরিবার (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
লালমোহন, ১০ এপ্রিল (জসিম জনি/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার লালমোহনে ৯ এপ্রিল সোমবার বিকেলে আকষ্মিক টর্নেডোয় ২ শতাধিক ঘর সম্পুর্ণ বিধ্বস্তসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঘরের নিচে চাপা পড়ে ও টিনে কেটে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের প্যায়ারী মোহন গ্রামে এ টর্নেডোর ঘটনা ঘটে।
প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ টর্নেডোয় ওই এলাকার একটি আদর্শ গ্রাম সম্পূর্ণ গুড়িয়ে গেছে। গাছপালা উপড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টর্নেডোর আঘাতে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় সেখানকার ২ শতাধিক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। টর্ণেডোর সময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে ও টিনের সাথে কেটে গিয়ে আহত হয় সেখানকার জান্নাত, মিশু, শাহিনুর, রাকিব, সুফিয়াসহ অন্তত ৩০ জন।
এদিকে টর্ণেডোর খবর পেয়ে ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোলা জেলা প্রশাসক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ একেএম নজরুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য তাৎক্ষনিক ৮ মেঃটন চাল বরাদ্ধ দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ৯ এপ্রিল সোমবার বিকেলে ৩ টা থেকে একটানা ৬টা পর্যন্ত প্রচণ্ড গতিতে শিলা বৃষ্টি ও ঝড় চলতে থাকে। এরই মধ্যে বিকেল ৪টার দিকে আকস্মিক টর্ণেডোর ঘটনা ঘটে। লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের প্যায়ারীমোহন এলাকায় এ টর্ণেডোর আঘাত হানে। এতে ওই এলাকার আদর্শগ্রাম আশ্রম কলোনির ৪০ টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া সেখানকার আরো ২ শতাধিক কাঁচা ও টিনের ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। প্রতিটি ঘরের খালি ভিটা এবং ধ্বংসস্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। টিনের চালা গাছের মাথায় ঝুলে রয়েছে। উপড়ে গেছে কয়েক হাজার গাছ।
স্থানীয় ফারুক, বাবুল, ইউনুছ মিস্ত্রি, সাফিয়া খাতুন, আঃ রহিম, জামশেদ, ফিরোজ, জামালসহ আরো কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, এদের খালি ভিটার অশপাশের ক্ষেতে ও গাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ঘরের জিনিসপত্র। তারা স্ত্রী ও ছেলে সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে রয়েছেন। তারা জানান, ঘর হারিয়ে তাদের গত রাত (৯ এপ্রিল) কাটাতে হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। সামনের রাত কোথায় কাটবে তা জানে না এসব দরিদ্র পরিবার। আবার ঘর মেরামত করে উঠে দাঁড়াবার মতো সামর্থও তাদের নেই। ক্ষেতে খামারে কাজ করে সংসার চলতো এদের। এখন কাজও বন্ধ। নিজের ভাঙ্গা ঘর ঘুছিয়ে এখন সময় পার করছেন এসব পরিবার।
লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া জানান, ওই ইউনিয়নে টর্ণেডোর আঘাতে ৫ শতাধিক কাঁচা ও টিনের ঘর, মসজিদ বিধ্বস্থ হয়েছে। এছাড়া হাজারখানেক গাছপালা উপড়ে গেছে। ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হাজী বাদশা মিয়া জামে মসজিদ, অন্নদ্যা প্রসাদ হাজী আঃ মন্নান জামে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের রবি শস্যের ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন ভোলার জেলা প্রশাসক। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক ৮ মেঃটন চাল বরাদ্ধ দিয়েছেন।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/লালমোহন/জজ/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |