Current Bangladesh Time
Saturday June ১৩, ২০২৬ ৬:৪৪ PM
Barisal News
Latest News
Home » দৌলতখান » ভোলা » পাঁচ বছরেও রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল জাদুঘর
২৪ April ২০১৩ Wednesday ৫:১৭:৩০ PM
Print this E-mail this

পাঁচ বছরেও রাজস্ব খাতে স্থানান্তর হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল জাদুঘর
অচিন্ত্য মজুমদার


birshrestho-mosthofa-kamal-musium ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর

ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)

ভোলা :: ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম হাজিপুর গ্রামে মোহাম্মদ মোস্তফার জন্ম। যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখে লাভ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ খেতাব। ৭ বীরশ্রেষ্ঠের একজন তিনি। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার জেলা পরিষদের মাধ্যমে ২০০৮ সালের ৩ মে তার বর্তমান বাড়ির সামনের স্কুল ক্যাম্পাসে তার নামে একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করে। জাদুঘরটি ভোলার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু তা রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা, তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হাচ্ছে না। তৈরী হওয়ার ৫ বছর অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে রাজস্ব খাতে নেয়ার কোন উদ্যোগও নেয়নি সরকার। বর্তমানে এটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং মাননীয় উপদেষ্টা মো. আনোয়ারুল ইকবাল বিপিএম (বার) পিপিএমএর উদ্যোগে ২০০৮ সালের ৩ মে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী বর্তমান (মোস্তফা কামাল নগর) গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। ভবনটির উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের ৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কেএম সফিউল্লাহ বীর উত্তম। গ্রন্থাগারটিতে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে। রয়েছে পাঠকদের জন্য পড়ার সু-ব্যবস্থা। তবে সেই পরিমানে পাঠক নেই। রয়েছে যৎসামান্য পাঠক। এর মূল কারণ হচ্ছে তা জেলা শহর থেকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে। যদি এটি শহরের কাছকাছি থাকত, তাহলে পাঠকরা তাদের ইচ্ছেমত জ্ঞানের পিপাসা মিটাতে পারত। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের স্মৃতি মাখা ইতিহাসও সংরক্ষিত রয়েছে এই জাদুঘরে। রয়েছে তার ছোটবেলার ছবি, ব্যবহৃত পোষাক, খাবার প্লেট, চিরুনী, আয়না, টুপি, ক্রেস্ট ও প্রাপ্ত মেডেলগুলো। আরো আছে যুদ্ধে ব্যবহৃত তার রক্তমাখা কাঁদামাটিযুক্ত সে সময়কার পোষাকগুলো। এ যোদ্ধার ইতিহাস ঐতিহ্য ও আত্মজীবনীমূলক বইসহ দেশি-বিদেশি বইয়ের বিশাল সমাহার এই পাঠাগারটিতে। অত্যন্ত চমৎকার কারুকাজ সমৃদ্ধ এ কনক্রিটের সুরম্য ভবন কোন কাজেই আসেনা জ্ঞানপিপাসু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ভোলা জেলা প্রতিনিধি নীরব মোল্লা আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠের মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারটি যদি শহরের মধ্যে থাকতো তাহলে সকলে এটাকে জ্ঞান বিকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেতে পারত। এতে করে আমাদের জ্ঞানের চর্চা হত এবং ভালো কাজে সময়টাও কেটে যেত এবং ভোলার তরুণ প্রজন্ম দেশ ও দেশের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীদের জীবন আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারতো। দেশের প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করার প্রেরণা লাভ করতো।

আগামী প্রজন্মের কাছে মোস্তফা কামালের পরিচয় তুলে ধরার লক্ষ্যে এ জাদুঘরটি আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সামস্-উল আলম মিঠু। কারণ মোস্তফা কামাল ভোলার গর্ব। দেশ ও জাতি আজীবন তাকে স্মরণ করবে।

গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের গ্রন্থাগারিক (লাইব্রেরীয়ান) মোঃ সেলিম আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, গ্রন্থাগারটি শহর থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখানে তেমন কোন পাঠক আসেন না। তবে স্কুল চলাকালীন সময়ে কিছু পাঠক দেখা যায়। অন্যদিকে আমরা এখানে ২০০৮ সাল থেকে কর্মরত রয়েছি। গ্রন্থাগারটি পরিচালনার জন্য অন্তত চার জন লোক প্রয়োজন। সেখানে রয়েছে দুই জন। একজন লাইব্রেরীয়ান, অন্যজন কেয়ারটেকার। নেই কোন ঝাড়ুদার বা মালি। সরকার এখনও আমাদের এবং এই প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব খাতে নেয়নি। তবে রাজস্বখাতে নেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশকৃত একটি চিঠি বর্তমানে জেলা পরিষদে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মমিন টুলু আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের স্মৃতি রক্ষার্থে জেলা পরিষদের মাধ্যমে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাজস্ব খাতে যাবে কি যাবে না সে ব্যাপারে জেলা পরিষদের কিছু করার নেই। পুরো বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তবে আমরা এটিকে রাজস্ব খাতে নেয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাব।

সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
বরিশাল সিটি নির্বাচন: জামায়াতের প্রার্থী হেলাল, থাকছেন না ফয়জুল
হামে বরিশাল বিভাগে মৃত বেড়ে ৫০
বরিশালে পুলিশি অনুমতি না পেয়ে জাপার সভার ভেন্যু পরিবর্তন, যা বললেন মহাসচিব
হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল- ২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com