শেকড়ের টানে পিরোজপুরে নচিকেতা
 শেকড়ের টানে পিরোজপুরে নচিকেতা ছবি: সংগৃহীত
ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর গ্রামে মামা বাড়ি ঘুরে গেলেন সোমবার।
নচিকেতা বলেন, ‘সাতচল্লিশে দেশভাগের আগেই দেশ ছেড়ে যায় আমার পরিবার। তবু এই দেশ আমার। এইখানে আমার জন্মভিটা। আমি বাঙালি। এখানেই আমার শেকড়। কেবল প্রাণের টানে, বড় মায়ার টানে জন্মভিটায় ঘুরতে এসেছি। মানুষ যেমন পুণ্যের আশায় তীর্থে আসে।’
তিনি হঠাৎ করে মামা বাড়ি আসলে তাকে এক নজর দেখার জন্য গ্রামের মানুষ ভীড় জমায়। এ সময় শিল্পী নচিকেতা গ্রামবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সোমবার দুপুর সোয়া একটার দিকে ভাড়াকৃত হেলিকপ্টারযোগে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরের বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় তার এক ব্যবসায়ী ভারতীয় বন্ধু রাজেশ গুপ্তা সঙ্গে ছিলেন।
স্থানীয় থানা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ শিল্পীকে স্বাগত জানান ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এরপর নচিকেতা ভান্ডারিয়া বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখেন।
এ বিদ্যালয়ে নচিকেতার দাদু ললিত কুমার গাঙ্গুলী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে ভান্ডারিয়া শহর থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে চেচরীরামপুর গ্রামে তার মায়ের জন্মভিটা গাঙ্গুলী বাড়িতে যান।
সেখানে নচিকেতার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার মানুষ তাকে এক নজর দেখতে গাঙ্গুলী বাড়ি জড়ো হন।
তিনি গাঙ্গুলী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দিঘী ও বমনের খালের পাড়ে বসে কিছু সময় কাটান। এ সময় তিনি দিঘী ও খালের পানি বোতলে ভরে সঙ্গে নেন।
এ সময় ভান্ডরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান, চেচরীরামপুর ইউনিনের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান ও সাবেক চেয়ারম্যান মালেক খান উপস্থিত ছিলেন।
নচিকেতা জানান, দেশভাগের আগেই তার বাবা সবা রঞ্জন চক্রবর্তী ও মা লতিকা চক্রবর্তী ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর আর নিজ ভূমিতে ফেরা হয়নি।
নচিকেতা কয়েকদিন আগে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে মায়ের জন্মভিটা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর শেকড়ের টানে হেলিকপ্টার যোগে আজ ঢাকা থেকে ভান্ডারিয়া আসেন। বিকেলে আবার ঢাকায় ফিরে যান।
সূত্র: আরটিএনএন/বাংলানিউজ
|