| বরিশালে ক্ষুধা বিরোধী মিছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
খাদ্য অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, মোটা চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য ও কার্মসংস্থান এবং ও দেশের দারিদ্রপীড়িত জনগোষ্ঠীর খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করার দাবি জানিয়েছে কৃষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বরিশাল নগরীতে মিছিল সমাবেশে এ দাবি জানান তারা।
বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্তর থেকে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), এ্যাকশানএইড, প্রান্তজন এবং সিডো এর আয়োজনে মিছিল বের হয়ে বিবির পুকুর পারে এসে সমাবেশ করে।
প্রান্তজন’র নির্বাহী পরিচালক এস এম শাহাজাদা’র সভাপতিত্বে বক্তরা বলেন, দেশে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই অবিলম্বে এই আইন পাশ করে দেশের সকল মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, এবছর বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কৃষকদের লোকসান মোকাবেলায় তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ও কৃষিউপকরণ সহায়তা প্রদান করতে হবে।
বক্তরা বলেন, খাদ্য প্রত্যেক মানুষের প্রাথমিক ও প্রধানতম অধিকার। মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পূর্বশর্তই হচ্ছে তাঁর খাদ্যের অধিকার পূরণ করা। সাংবিধানিকভাবে জনগনের খাদ্যেও অধিকার অর্জন এবং পুাষ্টমান উন্নয়নে আংলাদেশ প্রতিশ্রুতিদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। খাদ্য নিরাপত্তা পরিসংখ্যানে উন্নতি হয়েছে আগেরকার তুলনায়। ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স) ২০১৬ অনুযায়ী, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও পুষ্টি দুরীকরনে দক্ষিন এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু তাতেও আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই।
বক্তারা আরো বলেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খাদ্য অধিকার বিষয়ক আইন থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তেমন কোন আইন নেই। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশীয় খাদ্য অধিকার সম্মেলনে খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই,
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, খাদ্যের অধিকারকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, জনগণের কাজের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কৃষিতে কর্মরত নারীদের কৃষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এবং কৃষি উপকরণ ও জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, মৌজা মানচিত্র ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও শ্রমজীবী নারী কৃষকের জন্য খাসজমির ন্যায্য বন্টন ও ভূমি সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন।
বক্তব্য রাখেন আই সি ডি এর নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার জাহিদ, মানবাধিকার জোট এর সভাপতি ডা: সৈয়দ হাবিবুর রহমান, ক্যাব’র সম্পাদক রনজিৎ দত্ত, বরিশাল জেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি মজিবর রহমান খান, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ আ: কাদের খান, রান’র নির্বাহী পরিচালক মো: রফিকুল আলম, বেলা’র সমন্বয়কারী লিংকন বয়ান, এন ভি এস’র নির্বাহী পরিচালক শওকত আলী বাদল, গ্রাউস’র নির্বাহী পরিচালক আ: মান্নান কিরন, আরোহি’র নির্বাহী পরিচালক এ টি এস খোরশেদ আলম, ডি ডি সি’র নির্বাহী পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, সিডো’র পরিচালক মো: রাসেল. সুগন্ধা’র
নির্বাহী পরিচালক আলেয়া পারভিন, প্রান্তজন’র প্রান্তজন’র ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী ইব্রাহিম হামিদ মাসুম, আরিফ জোবায়ের, প্রমূখ।
| |