পুরুষ শূণ্য গলাচিপার চরবেষ্টিন গ্রাম
গলাচিপা, ৭ এপ্রিল (সাইমুন রহমান এলিট/আমাদের বরিশাল ডটকম): গলাচিপার চরমোন্তাজের চরবিষ্টিন এলাকায় চিংড়ি ঘের নিয়ে সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলায় দুপক্ষের ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে পটুয়াখালী দ্রুত বিচার আদালতে ভিন্ন দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬০-৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এতে করে চরমোন্তাজের চরবেষ্টিন এলাকায় পুরুষদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার গ্রেপ্তার ও পুলিশের হয়রানি এড়াতে ভোর হলেই পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ছে চরবেষ্টিন এলাকা। পুরো এক গ্রাম হয়ে যায় পুরুষ শূণ্য।
সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর চরমোন্তাজের চরবিষ্টিন এলাকায় বাগদা চিংড়ি ঘেরের পানি তোলাকে কেন্দ্র করে ২৫ মার্চ রবিবার বিকেলে স্থানীয় কৃষকদের সাথে গলাচিপা উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি ও পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি হাজী আ. ওহাব খলিফার লোকজনের সাথে কয়েক দফা সংঘর্ষ বাধে। এসময় বিৰুব্দ জনতার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য পৌর মেয়র তিন রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করতে বাধ্য হয়। এ সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের এখন পর্যন্ত পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তাদেরকে লক্ষ করেই গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। তবে এ দাবি প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছেন হাজী আ. ওহাব খলিফা।
এদিকে এ অবস্থার মধ্যে ঘের মালিক হাজী আ. ওহাব খলিফার পক্ষে ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রফিক মুন্সী, খোকন হাওলাদার, ফোরকান হাওলাদার ও রাজ্জাক হাওলাদারকে প্রধান আসামী করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০-৫০ জনের নাম উল্লেখ না করে পটুয়াখালী দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে মো. খোকন হাওলাদার বাদী হয়ে মেয়রের জামাই প্রিন্স ওরফে জামাই প্রিন্স, তুহিন খলিফা, বাহাউদ্দিন খলিফা ও হাজী আ. ওহাব খলিফাকে প্রধান আসামী করে মোট ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১৫ জন অজ্ঞাতদের নাম উল্লেখ করে পটুয়াখালী দ্রুত বিচার আদালতে অপর আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলাই আদালত রাঙ্গাবালী থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে জানার জন্য রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মাহে আলমের সাথে সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/গলাচিপা/সার/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |