তরমুজ চাষে লাভবান হওয়ায় গত ১০ বছর ধরে উপকুলীও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে। চাষিরা দ্রুত সময়ে অধিক ফলনের আশায় সরকারের সুপারিশকৃত সার নীতিমালা উপেক্ষা করে মাত্রারিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। এর ফলে শুধু মাটির গুণাগুণ নষ্টই হচ্ছে না, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুপারিশমালা অনুযায়ী উপকুলীও এই অঞ্চলে প্রতি শতক তরমুজের জমিতে মোট ২ কেজি ৮৩১ গ্রাম রাসায়নিক সার এবং ২৮ কেজি জৈব সার ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ১ কেজি ২৮ গ্রাম, টিএসপি বা ডিএপি ৭২৯ গ্রাম, এমওপি ৬৪৮ গ্রাম, জিপসাম ৩৪০ গ্রাম, জিংক সালফেট ৬২ গ্রাম এবং বোরিক এসিড ২৪ গ্রাম। পাশাপাশি মাটির প্রাণ হিসেবে পরিচিত জৈব সার ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে প্রতি শতকে ২ কেজি ৮৩১ গ্রাম রাসায়নিক সার ব্যবহারের কথা, সেখানে অনেক কৃষক ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করছেন। বিপরীতে জৈব সার প্রায় ব্যবহারই করা হচ্ছে না। এতে জমির জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে, মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে এবং ফলন ধরে রাখতে ভবিষ্যতে আরও বেশি সারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে চাষিরা। চরকালাইয়া গ্রামের তরমুজ চাষী আনোয়ার প্যাদা, মিলন গাজী, ইব্রাহিম ও জাকির প্যাদার ভাষ্যমতে, তরমুজ চাষে সারই সব। যতবেশি সার দেওয়া হবে, ততবেশি ফলন পাওয়া যাবে। সার না হলে তরমুজ হবে না। ভালো ফলনের জন্য প্রতি শতক জমিতে তারা ১০ থেকে ১২ কেজি সার ব্যবহার করেন। এতে প্রতি গাছে প্রায় ১কেজি পরিমাণ টিএসপি, ডিএপি, ইউরিয়া, এমওপিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। এসব সার চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফলন পরিপাক্ক হওয়া পর্যন্ত চারধাপে দিয়ে থাকেন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আসাদুল হক বলেন, জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির পিএইচ (অম্লতা) এর মানে ভারসম্যহীনতা দেখা দেয়। এতে জৈব পদার্থ হ্রাস, পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যহীনতা ও উপকারী অনুজীব ধ্বংস করে এবং মাটির গঠন নষ্ট করে ফেলে। ফলে মাটি ক্রমশ অনুর্বর ও চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে। যে কারণে ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে আমন ধানসহ অন্য ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। শৌলা গ্রামের কৃষক আফজাল মিয়া, চরমিয়াজান গ্রামের জলিল ফরাজি ও মমিনপুরের আলাল হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫জন কৃষক বলেন, আগে তাদের জমিতে আমন ধানের ফলন ভালো হতো। কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে জমি নষ্ট হয়ে গেছে। যে জমিতে তরমুজ চাষ হয় সে জমিতে পরবর্তিতে ধান চাষ করলে ধানের গোছা মোটা হয়, গাছ তরতাজা হয় কিন্তু গাছে আশানরুপ ফলন না হয় না। এছাড়াও এসব জমিতে রবি মৌসুমে আমরা বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করতাম। তরমুজ চাষাবাদের কারণে তাও করতে পারছি না। তিনি অরো বলেন, তরমুজ খেতের রাসায়নিক সার জোঁয়ারের পানি কিংবা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আশ পাশের ডোবা, নালা খালের পানিতে মিশে যায়, ওই ডোবা-নালা খালের পানি খেয়ে গবাধি পশু বিশেষ করে মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারা যায়। সম্প্রতি উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের চরমমিনপুর এলাকায় এক কৃষক পরিবারের ৭টি মহিষ মারা যায় ও ৪টি অসুস্থ হয়ে পড়ে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, অনেক কৃষক মনে করেন বেশি সার দিলেই ফলন বেশি হবে। এমন ভুল ধারণা থেকে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করছেন। তবে বাস্তবে এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা কৃষকদের সার ব্যবহারে সর্বাত্মক পরামর্শ দেই। কৃষকদের উচিৎ কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারীদের পরামর্শ মেনে চলা। তাতে করে যেমন কৃষক লাভবান হবে তেমনি দেশের কৃষি ভবিষ্যৎ উজ্জল হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া
কঠোর অবস্থানে পুলিশ ॥ মামা খোকন সহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প