বরিশাল সদর উপজেলার ১ নং রায়পাশা-করাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ একর ফসলি জমির সেচ প্রকল্পে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনায় আসন্ন ধান চাষের মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সেচ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বরিশাল সদর উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সোলাইমান মল্লিকের পিতা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে ওই এলাকার প্রায় ৩০ একর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হলেও ডিজেলচালিত পদ্ধতির কারণে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতো।
পরবর্তীতে কৃষকদের সেচ ব্যয় কমিয়ে আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর কাছে একটি বোরিং পাইপ স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনটি ২০২৫ সালে অনুমোদন পেলে বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে কৃষকদের সেচ খরচ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং তারা আর্থিকভাবে লাভবান হন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শুরু থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে এবং চাঁদা দাবি করে আসছিল। তবে এসব দাবির কাছে নতি স্বীকার না করায় সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাতে দুর্বৃত্তরা সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, চুরি হওয়া যন্ত্রপাতির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা।
এই ঘটনার পর পুরো সেচ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সামনে ধান চাষের মৌসুমে সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব না হলে কৃষকদের ব্যাপক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেচ স্কিমের ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি উদ্ধার, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি উদ্যোগে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত সেচ ব্যবস্থা সচল করা না হলে আসন্ন ধান চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বহু কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত সেচ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে: বরিশালে তারেক রহমান