Home » বরিশাল » মুলাদী » মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ দরপত্রে অনিয়ম, কার্যাদেশ বাতিল ও পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ
১১ October ২০২৬ Sunday ১:৪৫:৪৩ PM
মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ দরপত্রে অনিয়ম, কার্যাদেশ বাতিল ও পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ
মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ওষুধ, রাসায়নিক পরীক্ষার উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার তিনটি দরপত্রে অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) রিভিউ প্যানেল-৫। দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাইয়ে ত্রুটি এবং অডিট রিপোর্টে অসংগতি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে দরপত্রগুলো পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪ অক্টোবর রিভিউ আপিল নম্বর ১২০/২০২৬-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়া ‘দি গ্রেট ইন্টারন্যাশনাল’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম এ আপিল করেন।
রিভিউ প্যানেলের নথি অনুযায়ী, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নন-ইডিসিএল ওষুধ, রাসায়নিক পরীক্ষার উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এতে মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছয়টিকে অযোগ্য এবং তিনটিকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। পরে যোগ্য তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
দরপত্র মূল্যায়নে অসন্তুষ্ট হয়ে ‘দি গ্রেট ইন্টারন্যাশনাল’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম রিভিউ প্যানেলে আপিল করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর ও ভ্যাট-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অনলাইন অডিট রিপোর্ট যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
শুনানিতে ক্রয়কারী পক্ষ দাবি করে, মূল্যায়ন কমিটি যাচাই-বাছাই করেই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করেছে। তবে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা নথিপত্র অনলাইনে যাচাই করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেন। পরে রিভিউ প্যানেল কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে কর রিটার্ন, ভ্যাট পরিশোধের সনদ ও অনলাইন অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
রিভিউ প্যানেলের অনুসন্ধানে নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনালের নথিপত্রে অসংগতি পাওয়া যায়। নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ২০২৬ সালের ২ জুলাই, টিআইএন সনদ ২৪ মার্চ এবং বিআইএন সনদ ১৭ মে ইস্যু করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা অনলাইন অডিট রিপোর্টের ডিভিসি (DVC) নম্বর যাচাই করে ওই নম্বরের বিপরীতে ‘কেডিএফ করপোরেশন’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট পাওয়া যায়। নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনালের নামে বৈধ অডিট রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে রিভিউ প্যানেলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিভিউ প্যানেলের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই দরপত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়েছিল। অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ প্যানেল আপিল মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট তিনটি দরপত্রের কার্যাদেশের নোটিশ ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে দরপত্রদাতাদের দাখিল করা প্রস্তাবগুলো বিধি অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন খাতের সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া নতুন করে মূল্যায়নের মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নিয়ম মেনে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনলাইন অডিট রিপোর্টে অসংগতির বিষয়টি জানা ছিল না। রিভিউ প্যানেলের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও সরকারি নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই দরপত্রগুলো পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে।’
বরিশালের সিভিল সার্জন মো. সাইয়েদুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে বিপিপিএর আদেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালের সাবেক ডিসি-এডিসির দুর্নীতি:ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
শেবাচিম হাসপাতাল: অতিরিক্ত শয্যাতেও ঠাঁই নেই
তদবিরে বিপাকে শিক্ষা বোর্ড: বরিশালে চাহিদার দ্বিগুণ পরীক্ষাকেন্দ্র
স্বামী রিফাত হত্যার বিচার শেষ হয়নি ৭ বছরেও: কনডেম সেলে অপেক্ষা ফুরায় না মিন্নির