Home » কলাপাড়া » পটুয়াখালী » ঝিনুকের তৈরি মানবাকৃতি দেখতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড়
১৭ October ২০২৬ Saturday ৪:৩৭:১০ PM
ঝিনুকের তৈরি মানবাকৃতি দেখতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড়
কলাপাড়া ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর পর্যটননগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে সাদা ঝিনুক সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে মানুষের আকৃতির দুটি ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম। সৈকতের পূর্ব দিকে জাতীয় উদ্যানের ঝাউবনের সামনে বালুচরে তৈরি এসব শিল্পকর্ম দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকেরা।
কেউ মুগ্ধ হয়ে দেখছেন, কেউ আবার মুঠোফোনে ছবি তুলে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রকৃতির বুকে ঝিনুকের এমন সৃজনশীল উপস্থাপন সৈকতে তৈরি করেছে ভিন্নধর্মী আকর্ষণ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে সৈকতের ঝাউবন পয়েন্টে দেখা যায় ব্যতিক্রমী এ দৃশ্য। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা কোনো পর্যটকদল বালুচরে সাদা ঝিনুক সাজিয়ে মানুষের অবয়ব দুটি তৈরি করেছেন। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কত সময় নিয়ে শিল্পকর্মগুলো তৈরি করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটার সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ট্যুর গাইড হৃদয় বিকেলে জাতীয় উদ্যানের সামনে ঘুরতে গিয়ে শিল্পকর্ম দুটি দেখতে পান। তিনি বলেন, দূরে অসংখ্য সাদা ঝিনুকের মতো কিছু একটা দেখতে পাই। কাছে গিয়ে দেখি, ঝিনুক দিয়ে দুটি মানুষের আকৃতির শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। দৃশ্যটি আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে। অনেক ধৈর্য ও সময় নিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। আমিও দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেছি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক স্মৃতি বলেন, আমরা এক দিন আগে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছি। সৈকতের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি, গোসলও করেছি। আজ এক অটোচালক গঙ্গামতি সৈকতের দিকে ঝিনুক দেখার কথা বললে সেখানে যাওয়ার জন্য বের হই। ঝাউবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ঝিনুক দিয়ে তৈরি মানুষের আকৃতিগুলো চোখে পড়ে। আমরা বেশ কিছু ছবি তুলেছি। তবে খারাপ লাগছে, জোয়ারের পানিতে এগুলো হয়ত ভেসে যাবে।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ঝিনুক দিয়ে মানুষের আকৃতি তৈরি পর্যটকদের সৃজনশীলতার একটি সুন্দর প্রকাশ। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। তবে পর্যটকদের আনন্দের পাশাপাশি সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিতভাবে এমন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা গেলে কুয়াকাটার পর্যটন আরও সমৃদ্ধ হবে।
কুয়াকাটায় পর্যটকেরা সমুদ্রস্নান, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি সৈকতে আলপনা আঁকাসহ নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। ঝিনুক দিয়ে তৈরি মানুষের অবয়ব দুটি সেই সৃজনশীলতারই নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ব্যতিক্রমী এ শিল্পকর্ম ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও আগ্রহ।
কুয়াকাটার বিস্তীর্ণ বালুচরে ঝিনুক দিয়ে তৈরি মানুষের অবয়ব যেন প্রকৃতি ও মানুষের সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধন। সামান্য উপকরণে তৈরি এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতির উপহারেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের সৃজনশীলতাও তাতে যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা বলে মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা
মরণফাঁদে পরিণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, চলতি বছরে ৩০ জনের মৃত্যু