![]() বরিশালে ছাত্র রাজনীতির অগণতান্ত্রিক অধ্যায়বিএম কলেজের অবৈধ অস্থায়ী ‘কর্মপরিষদ’র এক বছর
২০ June ২০১২ Wednesday ১২:০২:১০ PM
![]() অস্থায়ী ছাত্র কর্ম পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ ননী গোপাল দাস – ফাইল ফটো বরিশাল :: বরিশালের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ হিসেবে খ্যাত ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে অগণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত তিন মাস মেয়াদের অবৈধ ‘কর্মপরিষদ’ এক বছর পার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র তহবিলে জমা হওয়া কোটি কোটি টাকা লোপাট করতে মহানগর আ’লীগের প্রভাবশালী এক নেতার চাপে বিএম কলেজের কিছু শিক্ষক অবৈধ পন্থায় অস্থায়ী এ ‘কর্মপরিষদ’ গঠন করা হয়েছিল। গত বছরের ২০ জুন দক্ষিনাঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্যবহনকারী ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র সংবিধান সংশোধন করেই তড়িঘড়ি করে ছাত্রলীগের চিহ্নিত ক্যাডারদের নিয়ে বিকল্প ছাত্র কর্ম পরিষদ গঠন করেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস। সেদিন বিএম কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের জরুরী সভায় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিয়ে ২৬ সদস্যের কর্মপরিষদ ঘোষণা করে সাথে সাথেই শপথ বাক্য পাঠ্য করানো হয়। সেসময় ছাত্রলীগের একাংশ এবং ছাত্রদল-শিবির নেতারা গঠিত কর্মপরিষদকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে কলেজের কোটি কোটি টাকা লোপাটের জন্য এ পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে এ ‘কর্মপরিষদ’ প্রত্যাখ্যান করে। ![]() ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্নিত মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার (ছবিটি ২০১১ সালের ১১ মার্চ বিএম কলেজের সামনে থেকে তোলা) – ফাইল ফটো ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ন আহ্বায়ক মইন তুষারকে ভিপি ও নাহিদ সেরনিয়াবাতকে এ পরিষদের জিএস করা হয়। এ দু’জনই মহানগর আ’লীগের আহবায়ক ও বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সমর্থক ও বিভিন্ন বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য সমালোচিত। কর্মপরিষদের অপর ২৩টি সদস্য পদের মধ্যে ছাত্রমৈত্রীর ২জন এবং জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রসমাজের একজন করে প্রতিনিধি রেখে এ কর্মপরিষদকে নামেমাত্র সর্বদলীয় করা হয়েছিল। অবৈধ পন্থায় অস্থায়ী এ ‘কর্মপরিষদ’র শপথ অনুষ্ঠানের মাত্র চার ঘন্টার ব্যবধানে বিকল্প ছাত্র কর্মপরিষদকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন নবগঠিত পরিষদের সহ-ম্যাগাজিন সম্পাদক আতিকুল্লাহ মুনিম, সহ-পরিবহন সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে বাবু সেরনিয়াবাত এবং সমাজসেবা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেরনিয়াবাত ওরফে অনিক। গত এক বছরে অবৈধ এ ‘কর্মপরিষদ’ নবীনবরন, বর্ষবরন, ক্রীড়া প্রতিযোগীতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনার নাম করে কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র তহবিল থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএম কলেজের একাধিক ছাত্রনেতা। আর কথিত ‘কর্মপরিষদ’র এসকল কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষসহ কতিপয় শিক্ষক। বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ বাকসু’র গঠনতন্ত্রের ৪১ ধারা অনুযায়ী অনুযায়ী যদি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরিস্থিতি না থাকে তাহলে কলেজের নিয়মিত ছাত্রদের দ্বারা অস্থায়ী কর্ম পরিষদ গঠন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে কলেজের সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এক বছর আগে যে অস্থায়ী কর্ম পরিষদ গঠন হয়েছিল তাতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের কোন প্রতিনিধি নেই। শুধু অন্যান্য ছাত্রসংগঠনই নয়, ছাত্রলীগের অন্য একটা অংশকেও কর্মপরিষদে রাখা হয়নি। এমনকি এ কর্মপরিষদের ভিপি ও জিএস বিএম কলেজের নিয়মিত ছাত্রও নন। এ ব্যাপারে কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সম্পাদক অধ্যাপক কাইয়ুম উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘কর্মপরিষদের বৈধতার জন্য বাকসুর সংবিধান সংশোধন করা হয়েছিল।’ তিনি দাবি করেন, ‘গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য শিক্ষক ও ছাত্রদের সমন্বয়ে প্রতিনিধি পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ও তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল।’ এদিকে অস্থায়ী ছাত্র কর্ম পরিষদ গঠনের জন্য বাকসু’র সংবিধান পরিবর্তন করায় সেসময় এর উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কলেজের সকল ছাত্র সংগঠন ও এর নেতৃবৃন্দরা। এ ব্যাপারে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক সেরনিয়াবাত বলেন, ‘অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক কাইউম উদ্দিন অর্থের বিনিময়ে একটি অগণতান্ত্রিক পরিষদ গঠন করেছেন। ছাত্র সংসদের তহবিলের অর্থ আত্মসাতের জন্য সংবিধান সংশোধন করে এ পরিষদ গঠন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছাড়া গঠনতন্ত্র সংশোধন অবৈধ।’ ‘কর্মপরিষদ’ থেকে পদত্যাগ করা ছাত্রলীগের কর্মী গোলাম মোস্তফা সেরনিয়াবাত জানান, ‘আমরা চেয়েছিলাম নির্বাচন। কর্মপরিষদ গঠনের পরিকল্পনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, শপথও নিইনি। তারপরও আমাকে বিতর্কিত করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত ওই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল।’ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর আলম মঞ্জু বলেন, ‘কলেজ অধ্যক্ষ সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে এই পরিষদ গঠন করেছেন। যার কোন সংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি নেই। সরকারী দলের সুযোগ সুবিধা নিতে ও ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র তহবিলের টাকা আত্মসাত করতে কলেজ অধ্যক্ষ এই পরিষদ গঠন করেছেন।’ তিনি অবিলম্বে এ অবৈধ কর্মপরিষদ বাতিল করে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অস্থায়ী ‘কর্মপরিষদ’ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদঃ সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||


