বরিশালে লকডাউন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধে সারাদেশে শুরু হয়েছে ১৮টি শর্ত মানানোর কঠোর বিধিনিষেধ। অঘোষিত এই লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রাখায় সংকটে পড়েছেন বেশি। সংকটে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া দোকান কর্মচারীরাও। এ কারণে লকডাউনের প্রথম দিনেই দেশের অল্প কিছু জায়গায় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করলেও দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ বিক্ষোভ সংক্রমিত হয়ে পড়েছে।
তবে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলন করার উদ্দেশ্যে নয়, সত্যিকারের মানবিক তাগিদেই তারা দোকানপাট খোলার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সব কিছু খোলা রেখে লকডাউন করে শুধু দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বইমেলা চললে, অফিস-আদালত, কল-কারখানা চললে শুধু তাদের প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ থাকবে এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে তাদের দাবি লকডাউন করে বন্ধ না করে বরং দিনে সময় নির্ধারণ করে তাদের দোকানপাট খোলার সুযোগ দেওয়া হোক। এ দাবি না মানা হলে আন্দোলনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে অনেক জেলায়। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে ব্যবসায়ীরা।
বরিশালঃ
বরিশালে লকডাউন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টায় নগরীর চকবাজার এলাকা থেকে চকবাজার, মহসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেটের গার্মেন্টস দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা এই বিক্ষোভ করে। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।
সেখানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে আশ্বস্ত হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ সময় তারা জানান, এক বছর আগে করোনা সংক্রমনের শুরুতে তাদের দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সেই সময়ের লোকসান তারা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এখন আবার লকডাউনে দোকান বন্ধ রাখায় তারা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই অবস্থায় তাদের দাবি, কোনোরকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের যেন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকানের কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও জমা দেন।
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, প্রাপ্ত লিখিত আবেদনটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।
পটুয়াখালীঃ
পটুয়াখালীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাসহ শ্রমিক-কর্মচারীরা।
পটুয়াখালীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাসহ শ্রমিক-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার ( ৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে মিছিল বের করেন ব্যবসায়ী সমিতি ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিউমার্কেট গোলচত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিউ মার্কেট বাজার সমিতির সভাপতি মনির হোসেন তালুকদার, পটুয়াখালী গার্মেন্ট সমিতির সভাপতি আলহাজ হেমায়েত শিকদার ও সৈয়দ হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
এসময় বক্তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলে দিতে সরকারের কাছে দাবি জানায়। আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও ঈদ সামনে রেখে দোকানপাট খুলে দেওয়া না হলে ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তারা আরও বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও বইমেলা চলছে, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম চলছে, খোলা রাখা হয়েছে শিল্প-কারখানা। শুধু মার্কেট বন্ধ। তাদের প্রশ্ন, বইমেলা, অফিস, শিল্প-কারখানা থেকে করোনা ছড়ায় না শুধু মার্কেট থেকে ছড়ায়? মার্কেট বন্ধ রেখে ব্যবসায় ধ্স নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তাদের দাবি, গত বছরও পহেলা বৈশাখে, ঈদের আগে মার্কেট বন্ধ ছিল। কোনও ব্যবসা করতে পারিনি। এবারও পহেলা বৈশাখে ঈদের আগে মার্কেট বন্ধ রাখা হলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে আমাদের।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে পুলিশি অনুমতি না পেয়ে জাপার সভার ভেন্যু পরিবর্তন, যা বললেন মহাসচিব
হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল- ২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেন বিএমপি কমিশনার