চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায়, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত বরিশালবাসী। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে বেশিরভাগ এলাকা। লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা, শিল্পকলকারখানাসহ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
প্রখর গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। বরিশাল মহানগরী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল; সব জায়গায় দিন-রাত সমানভাবে চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন মালিকরা। নগরীর বিসিক শিল্প এলাকার শাওন পিভিসির মালিক সাইফুল মৃধা বলেন, বিদ্যুৎ থাকলে মেশিন গরম করতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে, কিন্তু এরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে উৎপাদন সম্ভব হয় না, বরং খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শ্রমিকদের ওভারটাইমও দিতে হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও প্রবীণরা। পরীক্ষার্থী আরাফাত বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বিপণিবিতানগুলোও। শহরের চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সত্তার মিয়া জানান, গরমের কারণে দিনে ক্রেতা কম থাকে, আর লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএস দিয়ে কিছুক্ষণ চালানো গেলেও পরে দোকান অন্ধকার হয়ে যায়। এতে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অফিস-আদালত ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। দি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বরিশালের পরিচালক অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন, তবে সরকার সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বরিশালের দুইটি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ এলাকায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ বরিশালের চাহিদা ৭৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ৫০ মেগাওয়াট, যা কখনো কখনো ৪০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। অন্যদিকে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ বরিশালের চাহিদা ৩৯ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট।
ওজোপাডিকো-২ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। উৎপাদন না বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
বিভাগের ছয়টি জেলা ও উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)