Home » পটুয়াখালী » বাউফল » বাউফলে ইউপি কার্যালয়ে তালা, সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ
১৭ June ২০২৬ Wednesday ৪:৪৯:২৯ PM
বাউফলে ইউপি কার্যালয়ে তালা, সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ
বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তালা ঝুলতে থাকায় বুধবারও সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে এসে অনেকেই ফিরে গেছেন। এর আগে উদ্যোক্তাকে মারধর ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার পর কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত দাসপাড়া ইউপি কার্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষা করলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। সেবা নিতে আসা দাসপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মো. সালমান মৃধা (৪৫) বলেন, মেয়ের জন্মনিবন্ধনের জন্য সকালে ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলাম। এসে দেখি গেটে তালা। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো সেবা পাইনি। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে আমরা পরিষদের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। গেটে তালা থাকায় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আবুল হোসেন বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। মঙ্গলবার কয়েকজন ইউপি সদস্য ও কয়েকজন ব্যক্তি পরিষদে এসে একজন উদ্যোক্তাকে মারধর করে ল্যাপটপ নিয়ে যায়। এক পর্যায়ের কার্যালয়ের একটি অংশের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. সাইফুল হাসান মামুনকে মারধর ও তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সাইফুল হাসান অভিযোগ করেন, প্রতিদিনের মতো তিনি কার্যালয়ে নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন। দুপুরে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তার ল্যাপটপ নিয়ে কক্ষে এবং ইউনিয়ন পরিষদের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে বিএনপি নেতা আলী আজম ও তার দলবল নিয়ে তার বাসায় গিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়। কীসের জন্য স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের কথা বলা হয়। সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগমও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, চোখের অপারেশনের পর বাসায় বিশ্রামে থাকা অবস্থায় কয়েকজন গিয়ে তাকে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেন। ভয়ভীতির মুখে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী বলেন, যা কিছু হয়েছে, তা ইউপি সদস্যরাই করেছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়া উচিত নয়। দ্রæত ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)