Home » বরিশাল » বাবুগঞ্জ » নিজ আঙিনায় মান্তা শিশুদের লেখাপড়া শেখান দুই বোন
১০ May ২০২৬ Sunday ৯:৫৬:১৪ PM
নিজ আঙিনায় মান্তা শিশুদের লেখাপড়া শেখান দুই বোন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে শিক্ষাবঞ্চিত মান্তা শিশুদের পাঠদানে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন দুই বোন। প্রতিদিন নিজেদের আঙিনায় খোলা আকাশের নিচে শিশুদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন তারা।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে দুই বোনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। শনিবার বিকালে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে তিনি এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঘুরে দেখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে প্রায় ৭০টি মান্তা পরিবার অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। কেউ বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে ছোট ঘর তৈরি করে থাকলেও অনেকে নৌকাতেই বসবাস করেন। অধিকাংশ অভিভাবক নিরক্ষর হওয়ায় শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার বিষয়ে সচেতনতা কম। ফলে শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে মাছ ধরা ও বিভিন্ন কাজে পরিবারকে সহায়তা করছে।
এ অবস্থায় লোহালিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের দুই মেয়ে মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার নিজ উদ্যোগে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দিতে এগিয়ে আসেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তারা প্রতিদিন বিকালে নিজেদের বাড়ির আঙিনায় এক ঘণ্টা করে শিশুদের পাঠদান শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন শিশু এই পাঠশালায় অংশ নিচ্ছে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা সরেজমিন গিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাঠদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও মান্তা সম্প্রদায়ের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও আসমাউল হুসনা বলেন, শিক্ষাবঞ্চিত মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের ভর্তি ও নিয়মিত পাঠদানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতনমহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তারের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শিশুদের শিক্ষায় অবদান রাখায় দুই তরুণীকে ধন্যবাদ জানান।
মান্তা সম্প্রদায়ের সদস্য হেলেনা বেগম বলেন, আমাদের প্রায় ২শ শিশু আছে; কিন্তু দারিদ্র্য আর নদীকেন্দ্রিক জীবনের কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। এখন অন্তত কিছু শিশু লেখাপড়া শেখার সুযোগ পাচ্ছে।
উদ্যোক্তা মুন্নি আক্তার জানান, এই শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া এবং বিদ্যালয়মুখী করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম চালানোর ইচ্ছা রয়েছে।
ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, মান্তা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, আটক ৩
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
দু’বছরে বিসিসির মশা মারার ব্যয় ২১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৬ কোটি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বরিশালের বিএনপি নেতাদের মতবিনিময় সভা আজ, দল গোছানোই লক্ষ্য
বাড়ছে মন্ত্রিসভার আকার, আসছে নতুন মুখ,তালিকায় সেলিমা রহমান ও মোশারেফ