বরগুনার পাথরঘাটায় হঠাৎ করে এক বাড়িতে জীবিত হরিণ ঢুকে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১১ মে) দুপুর ৩টায় স্থানীয়দের সহায়তায় বনবিভাগ পৃথক বাড়ি থেকে দুইটি হরিণ উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।
এর আগে এদিন সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববাড়িয়াা গ্রামের মোস্তফা ফরাজির বাড়িতে হঠাৎ করে হরিণটি চলে আসে। স্থানীয়রা প্রথমে বিষয়টি দেখে বিস্মিত হন এবং পরে বনবিভাগকে খবর দেন।খবর পেয়ে বনবিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির পুকুরপাড় থেকে একটি পুরুষ হরিণ উদ্ধার করে। উদ্ধারের ৩ ঘণ্টা পর কালিয়ার খাল গ্রাম থেকে আরো একটি মাদি হরিণ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সুন্দরবনের সঙ্গে এর ভৌগোলিক দূরত্ব তুলনামূলক কম। এ কারণে অনেকের ধারণা, হরিণঘাটা সংরক্ষিত বন থেকে পথ হারিয়ে হরিণটি লোকালয়ে চলে এসেছে।আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সুন্দরবন থেকে ধরা কোনো চোরাকারবারির হাত থেকে ছুটে এসে এটি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।
হরিণকে প্রথম দেখতে পাওয়া স্থানীয় যুবক আসাদুল জানান, তিনি সকালে ফসলের মাঠে কাজ করার সময় দূর থেকে হরিণটিকে দেখতে পান। পরে কয়েকটি কুকুর হরিণটিকে তাড়া করলে এটি দৌড়ে গিয়ে একটি জালে আটকে পড়ে। স্থানীয়রা জাল থেকে হরিণটিকে ছাড়িয়ে দিলে সেটি দৌড়ে মোস্তফা ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
বাড়ির মালিক মোস্তফা ফরাজি বলেন, হরিণটি কোথা থেকে এসেছে তা বলতে পারছি না। কুকুরের তাড়া খেয়ে এটি আমার বাড়ির পুকুরপাড়ে এসে পড়ে। পরে আমি দ্রুত বনবিভাগ ও স্থানীয়দের খবর দিই। পরে বনবিভাগ এসে হরিণটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মৃধা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি একটি জীবিত হরিণ।এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত হরিণটিকে বনবিভাগের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। লোকালয়ে এভাবে হরিণ সচরাচর দেখা যায় না, তাই সবাই অনেকটা অবাক হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জ্ঞানপাড়া টহল অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুরজিৎ চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বনবিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গাববাড়িয়া ও কালিয়ার খাল গ্রাম থেকে দুটি হরিণ উদ্ধার করেছে। একটি হরিণ কিছুটা অসুস্থ ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সেটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, হরিণগুলো কোনো চোরাকারবারির মাধ্যমে এলাকায় আনা হয়েছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)