Home » দুমকি » পটুয়াখালী » পটুয়াখালীর দুমকী: পায়রায় তীব্র ভাঙন, নিঃস্ব দেড় শতাধিক পরিবার
১২ September ২০২৬ Saturday ৭:০৩:১২ PM
পটুয়াখালীর দুমকী: পায়রায় তীব্র ভাঙন, নিঃস্ব দেড় শতাধিক পরিবার
অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সড়কে
ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি
দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম। ভাঙনে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সড়কে।সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের কবলে পড়ে এরইমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। কোনো কোনো পরিবার ৮-১০ বার নতুন করে ঘর বেঁধেছে।কিন্তু নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে সড়কের পাশে।
সূত্র জানায়, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুমকী উপজেলার আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বিলীন হবে দুটি বাড়ি ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সম্প্রতি সরেজমিন ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখার সময় কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা নিটুলী রানীর সঙ্গে।তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সম্প্রতি শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।
‘যাওয়ার জায়গা নেই’ উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা জাকির খান (৫০) বলেন, ‘কত মানুষ আইল, কত কতা কইলাম, কামের কাম কিছুই হইল না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।’
রিপন মাল (৩৭)-এর ভাষ্য, ‘বাপ দাদাদের আমল থেকে এই গ্রামটি ভাঙছে।এই বয়সে পাঁচছয়বার বসতঘর পাল্টাইছি। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়া বাসা ভাড়া করে থাকছি।’
স্থানীয়রা বলছেন, এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপর প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় তাদের কোনো পরিবার জমি পায়নি।
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়সম্বল এখন কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন গাজী বলেন, ‘পায়রার অব্যাহত ভাঙনে আমাদের ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি।’
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।
ইউএনও বলেন, ‘ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির আত্মহনন, লিখে গেছেন ৫ চিঠি
বেহাল দশা বরিশালের দুই বাসটার্মিনাল
৪-৫ বছরের মধ্যে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী
বরিশালে ঘুস ছাড়া কিছুই হয় না ভূমি দপ্তরে
ভিত্তিপ্রস্তরের ৯ মাসেও শুরু হয়নি মীরগঞ্জ সেতুর কাজ