Home » বোরহানউদ্দিন » ভোলা » বোরহানউদ্দিনে ‘দরকষাকষি করে ঘুষ নেন’ ভূমি কর্মকর্তা
১৩ October ২০২৬ Tuesday ১২:৪৪:৫০ PM
বোরহানউদ্দিনে ‘দরকষাকষি করে ঘুষ নেন’ ভূমি কর্মকর্তা
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ঘুষ ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বজলুর রহমান নামে এক ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. রাকিবের বিরুদ্ধে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, খতিয়ান সংগ্রহ, জমির খাজনা পরিশোধ ও নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে সরকারি ফির বাইরে ‘দরকষাকষি করে ঘুষ নেন’। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারী সবুজ মুসলমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় অফিস সহায়ক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব তাকে জানান, খতিয়ান খুঁজে দিতে কয়েক দিন সময় লাগবে এবং কাজটি ঝামেলার। একপর্যায়ে কিছু টাকা দিলে খতিয়ান খুঁজে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে সার্চিং ফি হিসেবে রাকিবকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়।
সবুজ জানান, ওই খতিয়ানগুলোর কপি পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে দেওয়া যাবে বলে জানান রাকিব এবং তাকে রোববার অফিসে যেতে বলেন। সেদিন অফিসে গেলে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান, ওই খতিয়ান দেওয়ার নিয়ম তাদের নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা দিলে তা দেওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। এ নিয়ে ‘দরকষাকষির’ একপর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
পরে ১ হাজার টাকা দিলে অফিস সহায়ক রাকিব খতিয়ানের নথির ছবি তুলে একটি কম্পিউটারের দোকানির কাছে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে আনতে বলা হয় সবুজকে। পরে কম্পিউটারের দোকানে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টি খতিয়ানের মধ্যে ১৬টির কপি সংগ্রহ করেন তিনি। বাকি দুটি খতিয়ান দেওয়া হয়নি। সেগুলো নিতে আবার গেলে তাকে সোমবার আসতে বলা হয়। তবে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাননি বলে অভিযোগ করেন সবুজ।
তিনি আরও জানান, ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টাকা নিলেও কোনো রসিদ দেননি। শুধু তিনি নন, তার মতো আরও অনেক সেবাপ্রত্যাশী টাকা দিয়ে সেবা নেন। দীর্ঘদিন ধরে খাজনা, খতিয়ান ও নামজারির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর ওই ভূমি অফিসে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বজলুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বজলুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। এটা রেকর্ড রুম থেকে সহিমোহর আনতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝে-মধ্যে দিয়ে থাকি। ভাই, আপনার ওই ১ হাজার ৮০০ টাকাই দিতে হবে।’ পরে তাকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করতেও শোনা যায়।
এ বিষয়ে মো. রাকিব বলেন, ‘আমি স্থায়ী কোনো পদে চাকরি করি না। অফিসের কাজে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান স্যার আমাকে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করান। কাজের ক্ষেত্রে অনেকে খুশি হয়ে আমাকে যা দেন, তা-ই রাখি। কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা রাখি না।’
অভিযোগকারী সবুজের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা চেয়েছি। তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।’
এদিকে জমির খাজনা পরিশোধ, নামজারি ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, হয়রানি এবং কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে না আসার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরাও।
শাহাজল খান নামে এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘জমির দাখিলার জন্য আবেদন করে পাঁচ দিন অফিসে গিয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে পাইনি। পরে সেই কাজ আর করতে পারিনি।’
মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘বিআরএস খতিয়ান এসেছে কি না, তা জানতে বেশ কয়েকবার ভূমি অফিসে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। পরে জেলা রেকর্ড অফিসে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে।’
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছি, এ বিষয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হোলো মঈন আব্দুল্লাহ কে
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক ধস, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
বরিশালের প্রথম সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যাত্রা
বরিশালের সাবেক ডিসি-এডিসির দুর্নীতি:ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ