Home » আগৈলঝাড়া » বরিশাল » ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়!
১৮ October ২০২৬ Sunday ৩:১৮:১১ PM
ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী এএসআইয়ের জিডি, অতঃপর বদলি বরিশাল পুলিশে তোলপাড়!
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) থানার ভেতরে অপমানজনক ও অশালীন ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এএসআই শাহনাজ আক্তার গত ৯ সেপ্টেম্বর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিভাগের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের হাতে আশা এএসআই শাহনাজ আক্তারের করা জিডির একটি অনুলিপিতে উল্লেখ করা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে।
জিডিতে শাহনাজ আক্তার উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) থানায় এসে তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। সে সময় শাহনাজ থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আঞ্জুমান তাঁর রাতের বেলায় ওসির কক্ষে যাতায়াত এবং চাকরিতে আসা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।
জিডিতে এর আগের আরেকটি ঘটনারও বিবরণ দিয়েছেন শাহনাজ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ছুটির ব্যবস্থা করতে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওসির অর্ডারলির মাধ্যমে ছুটির অনুমতি নিয়ে আবেদন করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত আরেক এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওসির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে রাত কাটানোর সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। তবে এসব কথা তিনি নিজে সরাসরি শোনেননি বলে জিডির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওসির স্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি অশালীন কথাবার্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে তিনি জিডি করেন।
এ বিষয়ে এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারবেন না। তবে তাঁকে যে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে, তা সত্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ওসির কারণে নিজেও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এএসআই শাহনাজ আক্তারও জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি থানার অভ্যন্তরীণ হওয়ায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে চান না। তবে জিডি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে, ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পর শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। পাশাপাশি ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব বদলির সঙ্গে জিডির কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ খান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভুল তথ্য, এগুলো কে ছড়ায়? এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্প্রতি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের কারণ জানতে চান। পরে তাঁকে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও তিনি আর কোনো জবাব দেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
পায়রা বন্দরের চ্যানেল খনন: পলির নিচে ৬৫০০ কোটি টাকা
মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা
মরণফাঁদে পরিণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, চলতি বছরে ৩০ জনের মৃত্যু