সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ ‘পরাজয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হিরন’
বরিশাল :: ‘বিএনপি, জামায়াত-শিবির চক্রের ষড়যন্ত্রে আ’লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী শওকত হোসেন হিরন পরাজিত হয়েছেন। তিনি (হিরন) তাদের খপ্পরে পড়েছেন। পরাজয়ের কারণে হিরন অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে এখন আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সম্পর্কে অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন কথা বলছেন।’ ২০ জুন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল জেলার দশ উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। উপজেলার আ’লীগ নেতৃবৃন্দের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৌরনদী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য বরিশাল জেলা আ’লীগের সভাপতি সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করার প্রতিবাদে বরিশাল প্রেসক্লাবে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. হারিছুর রহমান বলেন, ‘আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হাত ধরেই আওয়ামীলীগে এসেছেন শওকত হোসেন হিরন। বিসিসি নির্বাচনে ১৪ দলের পক্ষে হিরনকে সমর্থন দিয়ে শতশত নেতা কর্মীদের মাঝে হাসানাত আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়ে ছিলেন। পাশাপাশি টেলিভিশন মার্কা নিয়ে নির্বাচনী কাজে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও গত ১৭ জুন শওকত হোসেন হিরন কর্মী সভায় তার পরাজয়ের জন্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করে অসত্য ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়েছেন। বরিশাল জেলার দশ উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ওই বক্তব্যেও তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়ার পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ তার (হিরনের) জন্য কাজ করেছেন। তিনি নিজে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শওকত হোসেন হিরনের টেলিভিশন প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। তাই হিরনের পরাজয়ের জন্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করা অযৌক্তিক ও অন্যায়।’
‘এছাড়া হিরন তাঁর (হাসানাতের) বিরুদ্ধে যে ভাষায় অসত্য ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ন রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত। এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগে বিভাজন বাড়বে। আর এই বিভাজনের সুযোগ নেবে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-বিএনপি চক্র।’ তাই আওয়ামী লীগের ঐক্য বিনষ্ট না করার জন্য শওকত হোসেন হিরনের প্রতি আহ্বান জানান সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক ও মহানগর নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, অসুস্থ্যতার কারণে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। আজ পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি বৈঠক আছে, তিনি সেখানে গেছেন। আর জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি সংসদ অধিবেশনে আছেন। তবে তারা সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে জানেন।
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী শাহানারা আবদুল্লাহ বিসিসি নির্বাচনে কেন বরিশালে আসেননি এমন প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ জানান, তার (শাহানারা আবদুল্লাহ) ছোট ভগ্নিপতির অসুস্থ্যতার কারণে তিনি বরিশালে আসতে পারেননি। নির্বাচনের দিন ১৫ জুন তার ছোট ভগ্নিপতি ইন্তেকাল করেছেন। এমন দুর্দিনে ছোট বোনের পাশে থাকার জন্য নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে আসতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আনিচুর রহমান, সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান, গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম খান, হিজলার চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ টিপু, মেহেন্দিগজ্ঞের মাহেব হোসেন, মেহেন্দিগজ্ঞের আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মাইনুল ইসলাম, মুলাদীর পৌর মেয়র শফিকুল ইসলাম খান, বাকেরগঞ্জের পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, বাকেরগঞ্জ আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল আলম চুন্নু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগমসহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। চীফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |