দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা কর্মকর্তাকে স্টান্ড রিলিজ নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নানা অনিয়ন ও দুর্নীতির কারণে স্টান্ড রিলিজ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মোস্তফা মাসুদ নামে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ডেপুটেশন বানিজ্য ও ৩৫ জন এমএলএসএস নিয়োগে অনিয়মের কারণে তাকে ১৮ আগস্ট গৌরনদীতে স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুব এলাহী এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বরিশাল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা মাসুদ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিক্ষকদের শহরে বদলির নামে উৎকোচ গ্রহন করেছেন। গ্রামের প্রায় ৫০জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ডেপুটেশন বানিজ্য করে শহরের স্কুলগুলোতে ও শিক্ষকদের বাড়ীর পাশের স্কুলে দিয়েছেন।
জানা গেছে, হবি নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে ডেপুটেশনে নগরীর আমতলার মোর কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। চরকাউয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বিলকিস আক্তারসহ দুই জনকে ডেপুটেশনে অন্যত্র পাঠিয়েছেন।
এছাড়া দিনার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাদঁপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক জন করে প্রায় ৫০ জনকে গ্রাম থেকে শহরের স্কুলে ডেপুটেশনে দিয়েছে এ শিক্ষা কর্মকর্তা।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য নিজামুল হক অভিযোগ করেন- শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে ৩৫ জন এমএলএসএসকে নিয়োগ দেয়া যায়নি। যার কারণে ৩৫ লাখ টাকা ফেরত চলে গেছে। তিনি বলেন- এছাড়া তার অনিয়মের কারণে উপজেলা প্রায় ১০ বছর পিছেয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা মাসুদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুব এলাহী জানান- নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের বেশী একই স্থানে থাকতে পারে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রায় ৫ বছর ধরে এখানে আছে। তাই স্টান্ড রিলিজ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সর্ম্পকে তিনি জানান- তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। পরে তদন্ত করা হয়েছে। যে কারণে তাকে (মোস্তফা মাসুদ) এখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |