ঝালকাঠির বিভিন্ন স্কুলে অবৈধ পাঠ্যবই তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি
ঝালকাঠি, ৭ জানুয়ারী (মো. জিয়াউল হাসান পলাশ/আমাদের বরিশাল ডটকম): চলতি শিক্ষাবর্ষকে টার্গেট করে সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এবারো ঝালকাঠির বিভিন্ন স্কুলে অবৈধ পাঠ্যবই তালিকাভূক্তির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ভূয়া প্রকাশনী সংস্থার প্রতিনিধিরা স্থানীয় অসাধু কজন লাইব্রেরী মালিকের সহায়তায় মোটা অংকের টাকা নিয়ে এখন মাঠে। ইতিমধ্যেই তারা জেলা উপজেলার শিক্ষক সমিতি, শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধান এবং বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের সাথে যোগাযেগ করে দেনদরবার শুরু করেছে। অনেকের সাথে লেনদেনও শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে গতবছর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবা হোসেনের সহায়তায় প্রকাশ্যে এ ব্যবসা চলায় এবার একই সিন্ডিকেট আরো বেপরোয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। গতবছর সরকারী অনুমোদন ছাড়াই এসব নিম্নমানের অধিক মূল্যের নিষিদ্ধ বই উদ্ধার এবং প্রকাশ্যে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়েও পারেনি র্যাব। কারন শিক্ষা কর্মকর্তা রহস্যজনক কারনে সেবার এসব বইকে বৈধ বলে র্যাবকে জানিয়েছিলেন। কথিত আঝে, তিনি মোটা অংকের পার্সেন্টিজ নেয়ায় বিনিময়ে র্যাবকে ভুল তথ্য সরবারহ করেছিলেন।
গতবছর জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় চিহ্নিত কজন লাইব্রেরী মালিক অসাধু শিক্ষক সিন্ডিকেটের সহায়তায় এসব অননুমোদিত বই প্রকাশ্যেই বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। তাদেরকে এবারও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন লাইব্রেরীর গোডাউনে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নিষিদ্ধ নোট-গাইডসহ এনসিটিবির অনুমোদনবিহীন সহায়ক পাঠ্য পুস্তুক মজুদ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ বইয়ের স্যাম্পল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠানো শুরু হয়েছে। গত বছর এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বিরোধীতা করলেও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসব গোডাউন ও লাইব্রেরীতে কোন মোবাইল কোর্ট বা অভিযান না চালিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করেছেন।
তাই এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে ভাগেই ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখার মতামত জানিয়েছে অধিকাংশ অভিভাবকরা। তা নাহলে নোট গাইডসহ এনসিটিবির অনুমোদনবিহীন বই নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত এবারো অকার্যকর হওয়ার আশংকা করছেন তারা। অভিভাবকরা জানিয়েছে, এনসিটিবির বই ক্লাশে না পড়িয়ে কিছু শিক্ষক প্রতিবছর এসব বেশী দামের নিষিদ্ধ বই ক্রয়ে বাধ্য করায় অযথা অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এনসিটিবির অনুমোদনবিহীন সহায়ক পাঠ্য পুস্তক মুদ্রন, মজুদ ও বেচাকেনা প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছরের ন্যায় অনুপম, জুপিটার, পাঞ্জেরী, ইন্টারনেট, বর্নমালা, লেকচার, গ্যালাক্সি গাইড হাসান বুক ডিপোর জননীসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্টান কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ বইগুলোর স্যাম্পল এবারো ঝালকাঠি জেলা শহর ও উপজেলার নির্ধারিত এজেন্টদের পাঠিয়ে দিয়েছে। এতে একদিকে অসাধু শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রধান ও শিক্ষক সিন্ডিকেট মোটা অংকের পার্সেন্টিজ (ঘুষ) পাচ্ছেন, চিহ্নিত কজন লাইব্রেরী মালিক হচ্ছেন লাভবান। অন্যদিকে এসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও নিম্নমানের অতিরিক্ত মূল্যের বই বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে। মাঝখান থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা হচ্ছে প্রতারিত।
এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মাহাবুবা হোসেন আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, এবার আমি সিলেবাস পেয়েই প্রত্যেক স্কুলে পাঠিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এনসিটিবির বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছেনা। নিষিদ্ধ বই উদ্ধার অভিযানের ব্যাপারে আমি কিছুই করতে পারব না, এটা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/ঝালকাঠি/জিহা/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |