ভোলায় কলেজ ছাত্রী আহতের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, বাস ভাংচুর
 ভাংচুর করা গাড়ি, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঠা হাতে, রাস্তা কেটে ও আগুন জালিয়ে প্রতিরোধ ও আহত ছাত্রী খাদিজা আক্তার দোলা
ভোলা, ২৩ ফেব্রুয়ারী (অচিন্ত্য মজুমদার/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার সড়ক দুর্ঘটনায় বোরহানউদ্দিন পলিটেনিক্যাল ইনিস্টিটিউটের ৩ ছাত্রীসহ ৪জন গুরুত্বর আহত হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন পলিটেনিক্যাল ইনিস্টিটিউট ও আবদুল জাব্বার কলেজের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে প্রায় তিন ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এসময় উত্তেজিত ছাত্ররা রাস্তা কেটে, গাছ ফেলে ও আগুন জেলে রাস্তায় প্রতিরোধসহ ৩ টি বাস ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সেখানে বোরহানউদ্দিন পুলিশের পাশাপাশি ভোলা সদর থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পলিটেকনিক শিক্ষার্থী, থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বেলা ১ টার দিকে পলিটেকনিক যাত্রী ছাউনির সামনে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী খাদিজা আক্তার দোলা, রূপা রানী দে ও মুক্তা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলো। ওই সময় তাদের পাশ দিয়ে রিক্সা ভ্যান ও ভোলা থেকে চরফ্যাশনগামী হেলাল পরিবহন বাসটি দ্রুতবেগে যাচ্ছিলো। হেলাল পরিবহন বাসটি রিক্সা ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে তা ছিটকে ভ্যানচালক মিজানুর রহমানসহ ওই ৩ ছাত্রীকে আহত করে। তাৎক্ষনিভাবে আহত ৪ জনকেই বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে গুরুত্বর আহত ভ্যান চালক মিজানকে ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঠা নিয়ে রাস্তা কেটে, গাছ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক সময় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দেড় কি.মি. দূরে বোরহানগঞ্জ বাজারে গিয়ে ছাত্ররা বাস মালিক সমিতির ১ টি সহ জেনিক সুপার সার্ভিস ও আনন্দ পরিবহন নামের ৩ টি বাস ভাংচুর করে। শিক্ষার্থীরা এসময় যেকোন ধরনের যানবাহন চলাচলে বাঁধা দেয়। এক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভোলা সদর থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দুর্ঘটনা, সড়ক অবরোধ ও ভাংচুরের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন হায়দার, নির্বাহি অফিসার মোঃ শরিফুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন, বাস মালিক সামতির প্রতিনিধিদল অধ্যক্ষকের সাথে সমস্যা সমাধানের জন্য বসেন। তাদের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা ৪ ঘন্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।
এ ব্যাপারে বাকাসাপের সম্পাদক মাসুবিল্লাহ লিমন জানান, দূর্ঘটনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পলিটেকনিকের উভয় পাশে স্পিড ব্রেকার দেয়ার দাবীতে তাদের এ প্রতিবাদ। এছাড়া পলিটেকনিক ছাত্র যুবরাজ, নাঈম সহ আরো অনেকে জানান, সব সময় হাফ ভাড়া এবং সার্বক্ষনিক ক্যাম্পাসের সামনে বাস থামানোও তাদের দাবী।
বোরহানউদ্দিন পলিটেনিক্যাল ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিঃ হাসান মোঃ কামরুজ্জামান জানান, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৫ দফা দাবী পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। তিনি আরো দাবী করেন, গাড়ি ভাংচুরের সাথে শিক্ষার্থীরা জড়িত নয়।
সহিংস এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনায়েত হোসেন আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কলেজ কতৃপক্ষ বাস মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |