পটুয়াখালীতে বিএনপির দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াঃ পুলিশের লাঠিচার্জ, আটক ১
 পটুয়াখালীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশের অ্যাকশন (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
পটুয়াখালী, ১৩ মে (সঞ্জয় কুমার দাস/আমাদের বরিশাল ডটকম): পটুয়াখালীতে সমাবেশ পরিচালনার কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে ১৩ মে রোববার বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ দু’দফা লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্র ভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সদর থানা বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন দুলাল মাদবরকে মাদারবুনিয়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
১৩ মে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় তিতাস সিনেমা হল মোড় থেকেবিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শের-ই-বাংলা সড়কে গেলে পুলিশ মিছিলে বাঁধা দেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। পরে মিছিলটি বটতলায় এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এম এ রব মিয়া। এর আগে পৌর বিএনপির সভাপতি মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না বক্তব্য শুরু করলে সভার উপস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে বিএনপির সম্পাদক রব মিয়া গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে বিএনপি নেতা পান্না-কালাম গ্রুপের নেতা-কর্মীরা একে অপরকে কুরুচিপুর্ন পাল্টাপাল্টি শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কী শুরু হয়। উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্র ভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
পরে এ ঘটনা মিমাংসার জন্য উপস্থিত নেতৃবৃন্দদের নিয়ে পার্শবর্তী একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে বৈঠকে বসলে যুবদল নেতা মনির হোসেন বিএনপি নেতা সাঈদ হোসেন তালুকদারের গেঞ্জির কলার ধরলে আবারো হাতহাতি শুরু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ আবারো লাঠিচার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। শেষ পর্যন্ত মিমাংসা ছাড়াই নেতৃবৃন্দ চলে যায়। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরের তিতাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ উত্তপ্ত করে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পিছনে বিএনপি নেতা দুলাল মাদবরের ইন্ধন রয়েছে এবং পরবর্তি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাকে আটক করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএ রব মিয়া জানান, সেখানে তেমন কিছু হয়নি। বক্তব্য দেয়া নিয়ে ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পুলিশ আমাদের নেতা কর্মীদের ধাওয়া করেছে। তবে কেউ আহত হয়নি।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/পটুয়াখালী/সকু/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |