মনপুরায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষনা
মনপুরা, ৫ ডিসেম্বর (মোঃ মাহবুবুল আলম শাহীন/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অসৌজন্যমূলক আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে এবারের বিজয় দিবসে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত সরকারী অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন মনপুরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল। গত ১ ডিসেম্বরের জরুরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি অবহিত করার জন্য উর্ধ্বতন বিভিন্ন দপ্তরে অবহিতকরন চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল কমান্ডারের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিয়াকত আলী অত্র উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল সর্বক্ষেত্রে এবং সকল কাজে নির্বাহী অফিসার কর্তৃক উপেক্ষিত। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের এক বৈঠকে বঙ্গমাতার শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করে কথাবার্তা বলেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে যেকোন চিঠিপত্র এলে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অবহিত করেন না। এমনকি কোন অনুষ্ঠানে চিঠি পত্র দিয়ে দাওয়াত করেন না। ঐ বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ‘‘এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে মুক্তিযোদ্ধা এলো কিভাবে?’’ এমন মন্তব্য করলে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা হতবাক হয়ে যান। মুহুর্তেই তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এহেন অসৌজন্যমুলক আচরনের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এদিকে গত ১ ডিসেম্বর এবারের বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য উপজেলা পরিষদ একটি সভা করেন। ঐ সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কিভাবে এবারের বিজয় দিবস সফল করা যায় তার সিদ্ধান্ত হয়। অপরদিকে একই দিনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল একটি জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আসন্ন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জনসহ উপজেলার যেকোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিজয় দিবসসহ সকল অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্তটি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্খানীয় সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ন দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার ও হাজীর হাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঃ লতিফ ভূইয়া বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগদানের পর থেকে আমাদেরকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করছেন। পূর্ববর্তী নির্বাহী অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গোরস্থান নির্মানের জন্য জমিটি বর্তমানে তিনি অস্বীকার করছেন। এছাড়া সকল কাজে আমোদেরকে উপেক্ষা করছেন বলে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিয়াকত আলী এ ব্যাপারে আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। তাদের কেউ আমাকে এ ব্যাপারে জানাননি। ওনাদের কোন অভিযোগ আছে কি-না তা আমাকে কখনো বলেননি। এটা মক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানান।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/মনপুরা/মাআ/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |