ভোলায় টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে
 ভোলার মনপুরায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ড-ভন্ড হওয়া বাড়িঘর (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা :: ‘সন্ধ্যার পর থ্যাইকা শুরু হয় ঝড় আর শিলা বৃষ্টি। কিছু বুইঝা উঠনের আগেই হারা গ্রাম ভুতুইরা গ্রাম হইয়া গেল।’ কথাগুলো বল্লেন টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত মনপুরা দঃ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মোঃ নাছির মাঝি (৭৫)। গত দুই দিন ধরে অনাহারে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা বৃদ্ধ এই লোকটির চাহনি এবং তার পিছনের বিধ্বস্ত ঘরগুলোর অবস্থাই বলে দিচ্ছিল ভোলার মনপুরাসহ ৩টি উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে টর্নেডোর ছোবলে মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় নিজ চোখে না দেখলে বুঝানো সম্ভব নয়, প্রায় ২০ হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে কিভাবে রয়েছে। দু’দিনে পৌছেনি কোন ধরনের খাবার কিংবা ত্রান। চারিদিকে মরা পশুপাখীর উৎকট গন্ধ।
টর্নেডো ভয়াল তান্ডব থেকে রেহাই পায়নি সেখানকার একটি ঘরও। কোথাও ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়ে গেছে, পড়ে আছে শুধু ভিটি। আবার কোথাও ঘরের কাঠামো দাড়িয়ে আছে, আর তার গায়ে টর্নেডোর ভয়াল তান্ডবের সাক্ষি হয়ে লেপ্টে আছে ঝাঁঝড়া হয়ে যাওয়া টিন। এসব ঘরের বসবাসকারী মানুষের ক্ষোভ, তারা দু’দিন ধরে না খেয়ে আছেন কিন্তু প্রসাশন থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতেও আসেনি।
 ভোলার মনপুরায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মৃত গবাদি পশু (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, ৯ এপ্রিল সোমবার বিকেলে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্নিঝড় মনপুরায় ব্যাপক আঘাত হানে। প্রচন্ড ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিতে এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে ঘূর্নিঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় স্থায়ী শিলাবৃষ্টিতে রবিশস্যের ব্যাপোক ক্ষতি হয়েছে। সম্পূর্নরূপে নষ্ট হয়েছে মরিচ, মুগ, কলাই, বাদাম, আলু, পিয়াজ, রসুন, তিল, তিসিসহ সকল ধরনের ফসল। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা পরেছে চরম বিপাকে।
মনপুরা উপজেলার দঃ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আঃ হালিম বলেন, এত কষ্ট করে ফসল বুনেছি। অনেক শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেছি। এখন সেই ফসল ঘরে তোলার সময়ে শিলা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। একদম পথে বসে গেছি।
উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন জানান, আকস্মিক ঘূর্নিঝড়ে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এলাকার বেশীরভাগ মানুষকে খোলা আকাশের নীচে কাটাতে হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে সাহায্য সহযোগীতার বিষয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
অপরদিকে ভোলা জেলা প্রশাসক খন্দকার মোস্তফিজুর রহমান আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সাড়ে ৬ হাজার মানুষ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ হাজার হেক্টর ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫৪ মে.টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। তবে দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে ত্রান পৌছাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |