Home » ঝালকাঠি » ঝালকাঠি সদর » ঝালকাঠিতে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে ৭৭ লাখ টাকা লোপাট
২৭ April ২০২৬ Monday ৩:০৪:৩৬ PM
ঝালকাঠিতে কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে ৭৭ লাখ টাকা লোপাট
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি শহরের বাসন্ডা এলাকায় অবস্থিত ‘আকলিমা-মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখিয়ে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকই বাস্তবায়ন হয়নি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহ আলম-এর সময়েই এসব বরাদ্দ অনুমোদিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নথিপত্রে কলেজটির নাম বিভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কখনো ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ’, কখনো ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ’ আবার কখনো ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়ার জন্যই এমনটি করা হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এডিবির বিশেষ বরাদ্দ থেকে মসজিদ উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাউন্ডারি ওয়াল, বালু ভরাট, সাইকেল স্ট্যান্ড ও শহীদ মিনার নির্মাণের নামে আরও প্রায় ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেখানো হয়েছে।
২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেইট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও একই কাজ ‘সীমানা প্রাচীর’ নামে আবার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে “বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ” নামে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
একই সময়ে শহীদ মিনার নির্মাণে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও অডিটে তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি; পরে ২০২২ সালে সেটি নির্মাণ করা হয়। মোটরসাইকেল শেড নির্মাণের নামে ৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে একটি সাধারণ টিনশেড ঘর পাওয়া গেছে, যা সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন দিয়ে তৈরি।
এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে মাঠ ও ডোবা ভরাটের নামে পুনরায় বরাদ্দ নেওয়া হয়। ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ’ নামে আরও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জেলার কোথাও ওই নামে কোনো মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জেলা পরিষদের কিছু নথি স্টোররুম থেকে গায়েব হওয়ার ঘটনাও পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী মহলকে সন্তুষ্ট রাখতে তৎকালীন চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়েছে।
বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো ভুয়া প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্প পাস করা হবে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল: ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
বাজেটে বরিশালে বাণিজ্যিক উন্নয়নের দাবি
দখল আর অপরিকল্পিত নগরায়ণে হারিয়ে যাচ্ছে বরিশাল নগরীর ১৭ খাল
বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
বরিশাল সিটি নির্বাচন: জামায়াতের প্রার্থী হেলাল, থাকছেন না ফয়জুল