Home » পিরোজপুর » পিরোজপুর সদর » পিরোজপুরে আড়াই কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ
২৩ June ২০২৬ Tuesday ১:৫১:৪২ PM
পিরোজপুরে আড়াই কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর পৌরসভায় তীব্র সুপেয় পানির সংকট থাকা সত্ত্বেও আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহরের নামাজপুর এলাকার আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগে প্লান্টের মূল্যবান বৈদ্যুতিক মালামাল ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে গেছে চোর চক্র। চুরির এই ঘটনার পর পৌর কর্তৃপক্ষ প্লান্টের গেট ঝালাই করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে জাপানের সহযোগিতায় নামাজপুরে এই আধুনিক পানি শোধনাগার প্লান্টটি নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর তা পিরোজপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্লান্টটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে হস্তান্তরের পর দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এটি একবারের জন্যও চালু করা হয়নি।
পৌরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন সচল না করায় আড়াই কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, ‘কাজ শুরু হওয়ার পর ভেবেছিলাম এটি চালু হলে আমাদের এলাকাসহ আশেপাশের পানির সমস্যা সমাধান হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৬ বছর ধরে প্লান্টটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে এর অধিকাংশ মালামালই চুরি হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত এটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পিরোজপুরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫-৬টি বাণিজ্যিক পানি শোধনাগার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা চায় না পৌরসভার এই সরকারি প্লান্টটি চালু হোক। তাই মালামাল চুরির পেছনে এবং প্লান্টটি বন্ধ রাখার পেছনে তাদের কোনো যোগসাজশ বা হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।
৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পিরোজপুর পৌরসভায় লক্ষাধিক জনগণের বসবাস। গ্রীষ্ম মৌসুমে এখানে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতেও কেন প্লান্টটি চালু করা গেল না, তার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক।
পৌরসভার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্লান্টটি চালুর লক্ষ্যে ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দফা চেষ্টা করেও কোনো ইজারাদার না পাওয়ায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তীব্র জনবল সংকটের কারণে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগেও প্লান্টটি পরিচালনা করতে পারেনি।
পৌরবাসীর দাবি, সুপেয় পানির মতো মৌলিক একটি চাহিদা পূরণে প্রশাসনের এমন উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না। চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত জনবল বা বিকল্প উপায়ে প্লান্টটি চালু করে লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া
কঠোর অবস্থানে পুলিশ ॥ মামা খোকন সহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প