টেকসই ও নিরাপত্তার জন্য সারাবিশ্বেই আইফোন বেশ জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, দারুণ ক্যামেরা, ডিজাইন আর দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় এটি হাতে রাখাকে অনেকে আভিজাত্য হিসেবেও দেখেন। কিন্তু সেই বিলাসী শখ পূরণের অন্ধ মোহে এক বাবা তার কলিজার টুকরো সন্তানকে বিক্রি করে দিতে পারেন, তা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। আইফোন কেনার টাকা জোগাতে এক বাবা নিজের ১৮ মাসের শিশু সন্তানকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন।
অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মারুফ (বাবা) তার মা মাহফুজা বেগমকে বলেন, শিশু মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন। সরল বিশ্বাসে তিনি নাতিকে সাজিয়ে মারুফের সঙ্গে দেন। তবে সন্ধ্যা গড়ালেও তারা বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে শিশুর মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে মারুফ স্বীকার করেন, তিনি তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রি শেষেই ঢাকায় গিয়ে পুরোনো ফোন বদলে তিনি একটি নতুন আইফোন কিনেছেন।
শিশুটিকে কিনে নেওয়া ইমরান বলেন, ‘তার শ্বশুরের কোনো ছেলেসন্তান না থাকায় আলোচনার মাধ্যমে লিখিত চুক্তি করে এক লাখ টাকায় ওই শিশুকে কেনা হয়। এরপর শিশুটিকে তার শ্বশুরের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
মারুফের মা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে এক মাস আগে মারুফের স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেছে। এরপরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটাল আমার ছেলে।’
দশমিনা থানার ওসি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। পরে অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ মুন্সিকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিকে ভুক্তভোগী শিশুকেও উদ্ধার করা হয়েছে।’
সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ‘স্ট্যাটাস’ প্রদর্শনের ইচ্ছা যে মানুষের বিবেক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সম্পর্কের কতটা মারাত্মক অবক্ষয় ঘটাতে পারে, বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের এই ঘটনা সে কথায় মনে করিয়ে দেয়।
এ ঘটনা কেবল অপরাধই নয়; বরং এটি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার এক চরম অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। দামি ব্র্যান্ডের ফোনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের এক শ্রেণির যুবকদের এ আসক্তি দিন দিন মনস্তাত্ত্বিক বিকারগ্রস্ততার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। যেখানে একটা সময় মানুষ নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতো সন্তানের সুখের জন্য, সেখানে আজ বিলাসী পণ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সম্মান বজায় রাখার অন্ধ মোহে নিজের রক্ত কিংবা সন্তান বিক্রি করতেও দ্বিধা করছে না কিছু মানুষ।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ঢাকার কারখানা চালু রাখতে কদর বাড়ছে ভোলার গ্যাসের
লিজ নেওয়ার পর মামলা দিয়ে দখল: বরিশালে বেহাত সরকারের হাজার কোটি টাকার জমি
১০ ঘণ্টা পর বরিশালে বাস চলাচল স্বাভাবিক, অবরোধে চরম ভোগান্তি