Home » উজিরপুর » বরিশাল » উজিরপুরে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে দলিল লেখক সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ
১৮ October ২০২৬ Sunday ২:২১:০০ PM
উজিরপুরে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে দলিল লেখক সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহুরী সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী ও অস্থায়ী গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এবং টাকা দেওয়ার প্রমাণ ভিডিও দেখানোর পর এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিরাজ হোসেন। এ ছাড়াও সাংবাদিক সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগও উঠেছে সবুজের বিরুদ্ধে। ১৭ অক্টোবর শনিবার দেওয়া লিখিত অভিযোগে মিরাজ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁর নিকটাত্মীয়দের নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাঁকে বারবার ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করতে টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। অভিযোগে মিরাজ দাবি করেন, কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও তাঁর কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর যোগাযোগ করলে টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে আরও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং সেই টাকা অস্থায়ী গাড়িচালক মো. রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলা হয়। মিরাজের ভাষ্য, আগে টাকা দেওয়ার প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে জানালে সুরাইয়া খানম সেই প্রমাণ দেখতে চান। পরে তিনি সুরাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাঠান। এরপর সুরাইয়া খানম ও রাসেল মৃধা তাঁকে ডেকে নিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে রাসেল মৃধা ও সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে ডেকে সবুজের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে রাসেল মৃধা ও সবুজ তাঁকে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন মিরাজ। অভিযোগকারীর দাবি, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা তাঁকে সেখানে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়, ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। মিরাজ হোসেন জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), উজিরপুর মডেল থানা-সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও সংযুক্ত করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সবুজের বিরুদ্ধে নিজের দলিল লেখার কার্যালয়ে উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটির সাইনবোর্ড লাগিয়ে কয়েকজন কথিত সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে প্রভাব বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাংবাদিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অর্থ আদায়ে জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিক সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে সুরাইয়া খানম, রাসেল মৃধা ও সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা জানান অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
পায়রা বন্দরের চ্যানেল খনন: পলির নিচে ৬৫০০ কোটি টাকা
মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা
মরণফাঁদে পরিণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, চলতি বছরে ৩০ জনের মৃত্যু