অভিমত ববি’র শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হয়েছে সাঈফ ইবনে রফিক
১.
বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিটা বেশ পুরোনো। বরিশালবাসী যখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করছে, এর অনেক পরে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। বৃহত্তর বরিশালের আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু মন্ত্রী থাকার সময়ই বিশ্ববিদ্যালয় চলে গেলো খুলনায়। পিরোজপুরের সাথে খুলনার সহজ যোগাযোগকেই এর জন্য দায়ী করতো বরিশাল শহরের বাসিন্দারা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি বিএম কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি উঠলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে দক্ষিণবাংলার সবচেয়ে বড় কলেজটা হারাইতে চাইলো না বরিশাল। দাবি উঠলো, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের। এরমধ্যে কেরামতউল্লাহর কেরামতিতে পটুয়াখালী একটা স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় পেয়ে গেলো। দীর্ঘতর হতে থাকলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন।
২.
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনায় আমার জোরালো আপত্তি ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে কথায় কথায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক আটকে দেয়, আমি মনেপ্রাণে চাইছিলাম, সেভাবে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক আটকে না যাক। এবারতো বরিশালের সাথে গোটা দক্ষিণের সড়ক যোগাযোগই হুমকির আওতায়! শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষে এটাতো পরিষ্কার, যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্ট্যাটাস সম্পর্কে ধারণা রাখে না। এবার তারা নিজেদের কর্মকর্তাদের পেটালো। ক্যামেরার সামনে সহকারী রেজিট্রারকে পেটানোর দৃশ্যটা নৃশংস! এর আগে পলিটেকনিকের উঠতি ইঞ্জিনিয়ারদের রামদা শোডাউন দেখেছিলাম, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মারকশাদের দেখলাম।
৩.
এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। শ্রমিক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ কেন? কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত বাস নেই। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোই এখনও গড়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। জিলা স্কুল ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাবে কেন? কেনই বা স্কুলবয়দের সাথে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে? আসলে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত, তারাই শিক্ষার্থীদের স্ট্যাটাস দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও যে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রামের মতোই একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, এটা সম্ভবত সিন্ডিকেট বোঝে না। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হয়েছে।
লেখক: সাঈফ ইবনে রফিক, কবি ও সাংবাদিক
|