ফুল দেওয়া নিয়ে শোক দিবসে আ’লীগে হাতাহাতি-হট্টগোল নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু এবং কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের প্রতিকৃতিতে পূস্পার্ঘ অর্পনকে নিয়ে বরিশাল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় বাদানুবাদ, হাতাহাতি, ধাক্কা-ধাক্কি, হট্টগোল এবং বিশৃংখলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পৃথক কর্মসূচীতে এসব ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী দলীয় নেতাকর্মীরা জানান- সকালে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বঙ্গবন্ধু ও কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুর সাথে আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আজাদের বাদানুবাদ হয়।
গুড়ি গুড়ি বৃস্টির মধ্যে নেতাকর্মীরা এসে পৌঁছানোর আগেই মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদের সূত্রপাত হয়।
এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাগ্নে সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ইমরুল আহম্মেদ উজ্জল আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আজাদকে কিল ঘুষি দেয়। সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজের উপস্থিতিতে এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সিনিয়র নেতারা ইকবাল আজাদের কাছে উজ্জলকে ক্ষমা চাওয়ালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ইকবাল আজাদ জানান- চেয়ারম্যানের সাথে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার উজ্জলের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।
উপজেলার চেয়ারম্যানের ভাগ্নে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ইমরুল আহম্মেদ উজ্জল জানান- তার সাথে ইকবাল আজাদের কিছুই হয়নি। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিমের সাথে তার (ইকবাল আজাদ) উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। আফজাল ভাইয়ের লোকজন তাকে (ইকবাল আজাদ) তোপের মুখে ফেলেছে।
ফুল দেয়ার পর মহানগর আওয়ামী লীগের শোক র্যালীতে ধাক্কাধাক্কি হওয়ায় নবীন নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে গালাগাল করেন করেন আওয়ামী লীগ নেতা লস্কর নুরুল হক। এতে ক্ষিপ্ত হন মহানগর যুবলীগের সভাপতি নিজামুল ইসলাম নিজাম। তিনি গালাগালের পাল্টা জবাব দেন লস্কর নুরুল হককে।
এদিকে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে ঠেলাঠেলী করায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আনিসকে সরে দাড়ানো অনুরোধ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৈয়দ আনিস শোক দিবসের অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করে চলে যান।
একাধিক বিচ্ছৃংখল ঘটনার প্রেক্ষিতে শোক দিবসের পুরো কর্মসূচীতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতাকে মানসম্মানের ভয়ে পিছনের সাড়িতে দেখা গেছে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |