প্রতিবেদন না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ শেবাচিমের পরিচালকের উপর চটেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিজস্ব প্রতিবেদক
মত বিনিময় সভায় মাইকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালকের উপর চটেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
এসময় মন্ত্রী হাসপাতাল পরিচালককে উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনি জানেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী আসবে। এখানে আলোচনা সভাও হবে তবে কেন পর্যাপ্ত মাইকের ব্যবস্থা রাখলেন না।
আর যদি মাইকের ব্যবস্থাই ঠিক মত করতে না পারেন তবে এত বড় দায়িত্ব নিয়ে কিভাবে হাসপাতাল পরিচালনা করবেন।
যদিও উত্তরে পরিচালক এ দায়িত্ব তার নয় বলে জানান। উত্তরে মন্ত্রী বলেন- আপনি এই ইনিষ্টিটিউটের একমাত্র পরিচালক দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
সোমবার বেলা ১২ টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম (এমপি) এ কথাগুলো বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর জন্য একটি মাইক্রোফোনের ও অন্যান্যদের জন্য ওয়ারলেস মাইক্রোফোনের ব্যবস্খা থাকলেও অনুষ্ঠান শুরুর পরপরই ওয়ারলেস মাইক্রোফোনে ত্রুটি দেখা দেয়। একটি সাউন্ডবক্স ও বিকল হয়ে পড়ে। এতে মতবিনিময় সভার কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক সয়ং সম্পূর্ণ প্রতিবেদন উপস্থাপন না করতে পারায় হতাশা প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি বলেন- বরিশাল শের-ই-বাংলার, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের, ১৫ আগষ্ট এর বহু শহীদদের । যারা দেশের মঙ্গল চেয়েছেন, দেশের জন্য প্রান দিয়েছেন, যাদের জন্য আমরা গর্বিত জাতি সেই বরিশালের উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। তার নির্দেশে আজ বরিশালে স্বাস্থ্য সেবার সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষে আমার এ সফর।
কিন্তু এখানে এসে পুরো বরিশালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা নিয়ে সয়ং সম্পূর্ণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেননি আপনারা। যত তারাতারি সম্ভব প্রতিবেদন দিন। বরিশালে স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়ন অগ্রধিকার ভিত্তিতে সবার আগে হবে।
মন্ত্রী আইসিইউ ইউনিটের বিষয়ে বলেন- প্রয়াত সাংসদ, আমাদের ছোট ভাই মেয়র থাকাকালীন সময়ে বরিশাল মহানগরীকে কত সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। আর সে অসুস্থ হয়ে পড়লে সময়মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন এটা শুনে সত্যিই কষ্ট হয়। এমন যেন আর কারো বেলায় না ঘটে এজন্য চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই আইসিইউ ইউনিটের জন্য সকল বরাদ্ধ দেয়া হবে।
এজন্য যা যা প্রয়োজন হাসপাতাল প্রশাসন তা আমাকে জানান আমি প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবলের ব্যবস্খা করে দেব।
মন্ত্রী হাসপাতালে জায়গা সম্প্রসারণের বিষয়ে বলেন- প্রতিটি হাসপাতালেই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেক স্খানেই বর্তমান সরকার জায়গা ও জনবল বৃদ্ধি করেছে। বরিশালে ঠিকাদারের করা একটি মামলার জন্য ৪ বছর ধরে ভবনের কাজ বন্ধ থাকা দুঃখ জনক। এটা মগের মুল্লুক নয়। অচিরেই এ ভবনের কাজ শেষ করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
ডেন্টাল ও বার্ন ইউনিটের বিষয়ে তিনি বলেন- বার্ণ ইউনিট চালু করা প্রয়োজন। এটা অতি দ্রুত এখানে চালু করা হবে। আর ডেন্টালের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ ইতিমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সে সকল যন্ত্রপাতি এই হাসপাতালের রয়েছে তা অনেক আধুনিক, এগুলো যেন জনবলের কারনে প্যাকেট বন্ধি হয়ে না থাকে সেজন্য হাসপাতাল প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
বক্তব্যে শেষে মন্ত্রী বলেন- আগামীকাল মঙ্গলবার ৬ হাজার ২ শত ২১ জন চিকিৎসকের কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়ে অনলাইনে তথ্য দিয়ে দেয়া হবে। সকলকে গ্রামে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন- যদি ডিসি সাহেব তার নিজ বাড়ি রেখে বরিশালে এসে কাজ করতে পারেন তবে কেন আপনারা চিকিৎসকরা পারবেন না। ডিসি সাহেবের মত আপনারাও তো দেশের মানুষের দেয়া অর্ধে চলেন।
তিনি রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন- দয়া করে চিকিৎসকদের পোষ্টিং এর জন্য সুপারিশ করবেন না। তাদের যেখানে দেয়া হচ্ছে সেখানেই কাজ করতে হবে। তবে যদি কেউ নিজ গ্রামে কাজ করতে চায় সেক্ষেত্রে সে সুবিধাও দেয়া হবে। কিন্তু গ্রামে কাজ করতে হবে। নয়তো সেখানকার মানুষ যাবে কোথায়।
এসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নিয়াজ আহম্মেদ, মহা পরিচালক প্রফেসর ডাঃ দীন মোহাম্মাদ নূরুল হক,
পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ এহেসানুল চৌধুরী দুলাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ বদিউজ্জামান চেীধুরী ডব্লুউ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রিয় মহাসচিব ইকবাল আস্যলান, সাবেক মহাসচিব ডাঃ শরফুদ্দিন আহম্মেদ,
বিপিএম’র নেতা ডাঃ জামাল চৌধুরী, বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, শেবাচমের অধ্যক্ষ ডাঃ সাব্বির আহম্মেদ, পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম, সিভিল সার্জন ডাঃ এটিএম মিজানুর, জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ ইসতিয়াক হোসেন, রহমান প্রমুখ।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |