Home » ভোলা » লালমোহন » লালমোহনে পিআইও’র তথ্য নিয়ে লুকোচুরি
১১ April ২০২৬ Saturday ১:৪৩:৩৯ PM
লালমোহনে পিআইও’র তথ্য নিয়ে লুকোচুরি
লালমোহন ((ভোলা) প্রতিনিধি:
লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের বিরুদ্ধে টিআর কাবিখার প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম ও তথ্য লুকানোর অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়নাধীন টিআর, কাবিখার প্রকল্প ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা বললেও তিনি তা প্রকাশ করেননি।
অভিযোগ উঠেছে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তার কাচারী এলাকার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য গত বছর ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ওই টাকা গত নভেম্বর মাসে উত্তোলন হলেও মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা করেননি মসজিদের সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ। টাকার তথ্য মসজিদ কমিটির সম্পাদক আলম সিকদারসহ মসজিদের কোনো মুসল্লিও জানতেন না। এমনকি মসজিদের উন্নয়নে অজুখানা ওই সময় মসজিদের ফান্ড থেকে খরচ করে কাজ করা হয়। এরপর টাকার অভাবে এ পর্যন্ত ছাদের কাজ শুরু করতে পারেনি মসজিদ কমিটি। তবুও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত টাকার কথা স্বীকার করেননি মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নয়ন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান। মসজিদের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা ফাঁস হলে গত ৩ এপ্রিল জুমার নামাজে মুসল্লিদের কাছে স্বীকার করতে বাধ্য হন।
এসব অনিয়ম যাচাই করতে লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের কাছে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে তিনি লুকোচুরি করেন। ৩ দিন তথ্যের জন্য প্রকল্প অফিসে গেলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে তথ্য সরবরাহ করতে গড়িমসি করেন। শেষে তথ্য অধিকার আইনে ফরম নিয়ে তথ্য চাইতে গেলে তিনি ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবেন, সেখান থেকে তথ্য নেওয়া যাবে বলে আবেদন নেননি। কিন্তু গত ৪ দিনেও অনলাইনে তালিকা পাওয়া যায়নি। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর-কাবিখার তথ্য উপজেলা ‘তথ্য বাতায়নে’ প্রকাশ করলেও এই অর্থবছরের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পিআইও পলাশ সমদ্দার নিজেকে রক্ষা করতে বায়তুল মামুর জামে মসজিদের বরাদ্দের টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিটিসহ ৬ জনকে দিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য মিডিয়াকর্মীদের কাছে পাঠান। তবে তার বক্তব্য সম্পূর্ণ উলটো।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান লিটন জানান, প্রকল্প অফিসের টিআর-কাবিখার বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগীরা জানতে পারত। স্বচ্ছতা থাকলে দুর্নীতি কমবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন-এর উপজেলা সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য তালিকা প্রকাশ জরুরি। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের লুকোচুরির কারণে কিছু আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিভিন্ন ঠিকাদারের পাশাপাশি নিজেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। যার মধ্যে রয়েছে একাধিক টিউবওয়েল। এসব টিউবওয়েলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে সর্বমোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দার জানান, কোনো প্রকল্প আমরা করিনি। সব প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে করা হয়েছে। প্রকল্প কমিটি বা সিপিসি কাজ শেষ করেছে। তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য অফিস সহকারীকে বলে দিয়েছি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)