Current Bangladesh Time
Saturday June ১৩, ২০২৬ ৬:২৬ PM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » বাবুগঞ্জ » দরপত্র ছাড়াই কলেজের মালপত্র বিক্রি, ট্রাক আটকে শিক্ষকদের থেকে টাকা আদায় বিএনপি নেতাদের
১৬ May ২০২৬ Saturday ১১:১৩:৪২ AM
Print this E-mail this

দরপত্র ছাড়াই কলেজের মালপত্র বিক্রি, ট্রাক আটকে শিক্ষকদের থেকে টাকা আদায় বিএনপি নেতাদের


নিজস্ব প্রতিনিধি:

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দরপত্র ছাড়াই সরকারি আবুল কালাম কলেজের পুরোনো মালপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পরে মালপত্র নেওয়ার সময় ট্রাক আটকে বিএনপি নেতারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে উপজেলার রাকুদিয়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামীম হোসেন রেজল্যুশন করে পুরোনো মালপত্র বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও বিএনপির নেতারা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে সরকারি আবুল কালাম কলেজের একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়। কয়েক দিন আগে ভবনের ছাদের পুরোনো রড, স্টোরে রক্ষিত লোহার রড, কিছু ঢেউটিন, পুরোনো দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালপত্র স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এই বিক্রয়ে কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

গতকাল বিকেলে ক্রয় করা মালপত্র কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ট্রাকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম। কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম ও প্রভাষক মো. সেলিম হোসেনের উপস্থিতিতে মালপত্র ট্রাকে তোলেন ব্যবসায়ীর লোকজন। মালপত্র তুলতে সন্ধ্যা হয়ে গেলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে এবং তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হাওলাদার এবং ওই ইউনিয়নের বাস্তুহারা দলের সভাপতি মো. সোহাগ হাওলাদার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলেজ সড়কে মালবোঝাই ট্রাকটি আটকে দেন। তাঁরা সরকারি মালপত্র বিক্রির বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত চান। এ সময় স্থানীয় নেতারা টেন্ডার ছাড়া সরকারি মালপত্র বিক্রি অবৈধ ঘোষণা দিয়ে দুই শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কলেজের পুরোনো ও পরিত্যক্ত মালপত্র বিক্রি করেছেন। ক্রেতা মালপত্র নেওয়ার সময় দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হাওলাদার লোকজন নিয়ে ট্রাক আটকে দেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যান।’

কলেজের প্রভাষক সেলিম হোসেন বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের রেজল্যুশন অনুযায়ী মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। ক্রেতা মালপত্র নেওয়ার সময় দুজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তখন স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন।’

অন্যদিকে মালপত্রের ক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন বিএনপির নেতারা।

দরপত্র ছাড়া মালপত্র বিক্রির কথা স্বীকার করে সরকারি আবুল কালাম কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামীম হোসেন বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে পড়ে থাকা পুরোনো মালপত্র শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ রেজল্যুশনের মাধ্যমে মালপত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। বিক্রির টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হবে। একটি চক্র ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে কলেজশিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বাস্তুহারা দলের ইউনিয়ন সভাপতি সোহাগ হাওলাদার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কলেজের মালপত্র অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ট্রাক আটকে দিয়েছিল। ওই সময় তিনি (সোহাগ হাওলাদার) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কলেজের কোনো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা কিংবা ভবন ভাঙার পরে মালপত্র বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভবনটি কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মালপত্রের মূল্য নির্ধারণ করে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে তা বিক্রি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সরকারি মালপত্র সরাসরি ব্যক্তিপর্যায়ে বিক্রির সুযোগ নেই। 

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, সরকারি আবুল কালাম কলেজের মালপত্র বিক্রি এবং শিক্ষকদের থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। সরকারি কলেজের মালপত্র দরপত্র ছাড়া বিক্রির এখতিয়ার কলেজ কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিএনপি নেতাদের টাকা নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না। এ বিষয় লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে দলীয়ভাবে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
বরিশাল সিটি নির্বাচন: জামায়াতের প্রার্থী হেলাল, থাকছেন না ফয়জুল
হামে বরিশাল বিভাগে মৃত বেড়ে ৫০
বরিশালে পুলিশি অনুমতি না পেয়ে জাপার সভার ভেন্যু পরিবর্তন, যা বললেন মহাসচিব
হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল- ২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com