পটুয়াখালীর দুমকিতে সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক আবুল কালাম খান মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহতের লেখা চিরকুটে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— উত্তম কুমার, কালাম মৃধা, মিলন মৃধা, হান্নান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খা ও ছালাম মৃধা। চিরকুটে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন আবুল কালাম খান।
চিরকুটের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ‘পিলারের ব্যবসার লোভ’ দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তম কুমার দাবি করেন, ‘আমি কালাম খানকে চিনিই না।’
চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, কালাম মৃধা ওই অর্থ লেনদেনে মধ্যস্থতা করে টাকার ভাগ নিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আরেক অভিযুক্ত মিলন মৃধার বিরুদ্ধে চিরকুটে লেখা হয়, তাকে সাক্ষী রেখে ১০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মৃধা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
মিলন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিরকুটে দেলোয়ার হোসেন টিটু খাকে এলাকার শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে আবুল কালাম খান লিখেছেন, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় টিটু খা তাকে পথে-ঘাটে দেখলেই হত্যার হুমকি দিতেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে টিটু খা বলেন, ‘এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।’
বাকি অভিযুক্ত হান্নান সিকদার ও ছালাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের মেয়ে রাবেয়া বলেন, ‘কিছু লোক আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে। চিরকুটে যাদের নাম আছে, তাদের বিষয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলতেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বাবা এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন আবুল কালাম খান। একসময় তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
আগামী ৬ জুন শেবাচিমে চালু হবে হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সহ ৪ জনের বিচার শুরু
শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ
বগায় ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী
হামের চাপে শেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতাল, রোগী ধরে রাখতে পারছে না উপজেলা হাসপাতাল