Current Bangladesh Time
Saturday June ১৩, ২০২৬ ৬:২৩ PM
Barisal News
Latest News
Home » ভোলা » ভোলা সদর » ভোলায় ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পারাপার, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা
২৫ May ২০২৬ Monday ৫:১৭:২৯ PM
Print this E-mail this

ভোলায় ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পারাপার, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা


ভোলা প্রতিনিধি:

ঘরমুখী যাত্রীর এখন ভীষণ চাপ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ির পথ তারা।তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা নদীর ‘ডেঞ্জার জোন’ পাড়ি দিচ্ছেন এসব যাত্রী। এতে সহযোগিতা করছে অবৈধভাবে চলাচলকারী লঞ্চ ও ট্রলার। 

বিআইডাব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটটি ডেঞ্জার জোনের আওতায় পড়ায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর রুটটিতে সি-সার্ভে বা বে-ক্রসিং সনদবিহীন নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাত্রীর তুলনায় নৌযান কম থাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছোট ছোট ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পড়ি দিচ্ছেন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা।এ নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের সামনেই ছোট ছোট ট্রলারে করেও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। নিরাপদ নৌযান না থাকায় যাত্রীরাও বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে এসব নৌযানে পারাপার হচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) সকালে সরেজমিন ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা আটটি লঞ্চ একে একে ভোলার ইলিশা ঘাটে এসে ভিড়েছে। প্রত্যেক লঞ্চেই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী।একই সময় লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে ছোট ছোট পাঁচটি ট্রলারে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইলিশা ঘাটে আসে হাজারো যাত্রী। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছালেও লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রলারে করে আসা যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে এসব যাত্রীকে। এ ছাড়া মেঘনায় নাব্যতা সংকটের কারণে  রুটটিতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ভোলা-ঢাকা ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই ঘাটে আসছে।তবে ভোলা-ঢাকা রুটে যাত্রীরা কিছুটা নিরাপদে আসতে পারলেও নৌযান সংকটে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

অভিযোগ উঠেছে, বিআইডাব্লিউটিএ, নৌপুলিশ ও ইলিশা ফাঁড়ির পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপস্থিতিতেই ট্রলারে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘাটে পুলিশ ও নৌপুলিশ উপস্থিত থাকলেও ট্রলার বন্ধে তাদের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

সূত্র জানায়, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে চারটি সি-ট্রাক ও দুইটি লঞ্চ চলাচল করছে। এ ছাড়া এই রুটে চারটি ফেরিও নিয়মিত চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে রুটটিতে যাত্রী বাড়লেও নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি।

লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রলারে আসা যাত্রী মো. রাকিব জানান, চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে ভোর রাত ৪টার দিকে মজুচৌধুরীর ঘাটে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লঞ্চ না পেয়ে ট্রলারে উঠেছেন। ১৮০ টাকার ভাড়া নিয়েছে  ২৫০ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছোট্ট ট্রলারে বিপুলসংখ্যক যাত্রী তোলায় নড়াচড়া করারও সুযোগ হয়নি। এ ছাড়া ছাউনি ছাড়া খোলা ট্রলারে তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাদের।

ট্রলারের অপর যাত্রী মো. ইকরাম জানান, মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে লঞ্চে রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর লঞ্চটি নদীর মাঝে আটকে যায়। পরে বিকল্প উপায়ে ট্রলারে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইলিশা ঘাটে এসেছেন তিনি। তীব্র গরমের সঙ্গে নদীর মাঝে ঢেউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।

যাত্রী শফিক সিকদার বলেন, স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ও দ্রুত বাড়ি আসতে ট্রলারে করে রওনা দিয়ে মাঝপথে ঢেউয়ের কবলে পড়েছি। এভাবে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হয়নি।

তবে অবৈধভাবে যাত্রী নিয়ে আসা এমবি আফনান খন্দকার-২ নামের  ট্রলারের চালক মো. শাজাহান বলেন, লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তিনি ট্রলারে করে যাত্রী পরিবহন করছেন। উত্তাল মেঘনায় যাত্রী পরিবহনের বিষয় তিনি বলেন, ‘নদী শান্ত। তাই যাত্রী এনেছি।’

এদিকে, ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রিয়াজ হোসেন, ইসমাইল হোসেনসহ অনেক যাত্রী জানান, প্রত্যেক লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কিন্তু ঈদ উপলক্ষে এটা মানতে হবে। ভিড় হলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরে খুশি তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডাব্লিউটিসি) ভোলার ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. কাছার বলেন, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে চারটি সি-ট্রাক ও চারটি ফেরি চলাচল করছে। এছাড়া এমভি পারিজাত ও অপরাজিতা নামের দুটি বেরসরকারি লঞ্চ রয়েছে। ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রত্যেক সি-ট্রাক যাত্রী থাকা পর্যন্ত চলাচল করছে। তবে এর পরও যদি যাত্রী বেশি হয়, তাহলে তাদেরকে ফেরিতে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ভোলার ইলিশা নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ট্রলারগুলো মূলত আসে লক্ষ্মীপুর থেকে। অবৈধভাবে চলাচল করা  নৌযান বন্ধ ও সরকারি নৌযান বাড়ানোর বিষয়ে ভোলার বিআইডাব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালককে জানানো হয়েছে। যাত্রীরা নিরাপদ নৌযান না পেয়ে অবৈধভাবে চলাচলকারী ট্রলারে ওঠেন। এর পরও এসব নৌযান বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

ভোলার বিআইডাব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি দে কালের কণ্ঠকে বলেন, লক্ষ্মীপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ভোলায় আসার পর একটি ট্রলারকে আটকের পর মামলা দেওয়া হয়েছে। ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি লাগবে এ রুটে চলাচলকারী সি-ট্রাক ও লঞ্চগুলো সিডিউল ছাড়াই যতক্ষণ যাত্রী থাকবে, ততক্ষণ চলাচল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফারহান নামের আরো একটি লঞ্চ এই রুটে দেওয়া হয়েছে। তবে সকালে একটি লঞ্চ ডুবোচরে আটকে পড়ায় ওই লঞ্চের যাত্রীরা ট্রলারে করে এসেছেন। অবৈধভাবে চলাচলকারী ট্রলার বন্ধে ঘাটে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন তারা।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
বরিশাল সিটি নির্বাচন: জামায়াতের প্রার্থী হেলাল, থাকছেন না ফয়জুল
হামে বরিশাল বিভাগে মৃত বেড়ে ৫০
বরিশালে পুলিশি অনুমতি না পেয়ে জাপার সভার ভেন্যু পরিবর্তন, যা বললেন মহাসচিব
হত্যাচেষ্টা মামলায় বরিশাল- ২ আসনের সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com