Home » পটুয়াখালী » বাউফল » বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ
৬ June ২০২৬ Saturday ৫:২২:০৯ PM
বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি দখল, ঘর নির্মাণ এবং পুকুরের মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভরিপাশা মৌজার ৪০৫ ও ৪০৬ নম্বর খতিয়ানের ৯৩ নম্বর দাগসহ একাধিক দাগের প্রায় ১২ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী খান ও মজিবুর খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে মজিবুর খান ও তার ভাইয়েরা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে মোবারক খান বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় গত ২২ জানুয়ারি মজিবুর খানকে বিবাদী করে পটুয়াখালী সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন মোবারক আলী খান। মামলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে গত ২৪ মে জমির বর্তমান অবস্থা বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই আদেশের পরদিন ২৫ মে মজিবুর খান ও তার ভাইয়েরা বিরোধপূর্ণ জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে মোবারক খান ও তার ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। একই দিন মোবারক খানের ছেলে দেলোয়ার খান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে মুচলেকা নেয় এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মজিবুর খান ও তার লোকজন পুনরায় ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান। একই সঙ্গে মোবারক খানের পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। মোবারক আলী খান বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমিতে তারা কোনো অংশ পাওয়ার কথা নয়। তবুও প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। কোনো সালিশ-বিচার মানছে না, এমনকি আদালতের আদেশও উপেক্ষা করছে। পুলিশকে জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাইনি।” তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মজিবুর খান। তিনি বলেন, “ওই দাগে আমি জমি পাব। তাই আমার জমিতে ঘর তুলছি।” আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে থানায় দায়ের করা অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মো. মেহেদী বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। থানায় ডেকে তাদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)