একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে শঙ্কিত বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও রোগীরা। দুই বছরে এরকম আটটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারাও গেছেন দুজন। কেন বারবার ঘটছে আগুনের ঘটনা, তা খুঁজতে গিয়ে মিলেছে নাশকতার আভাস। কর্তৃপক্ষের ধারণা-ইচ্ছা করেই আগুন লাগাচ্ছে একটি চক্র।
এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগ এবং আন্তঃবিভাগ মিলিয়ে চিকিৎসা নেন গড়ে পাঁচ হাজার মানুষ। দুবছরে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে তিনটি ছিল বড় ধরনের। ২০২৪ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের প্রমাণ মিলেছে। বাকিগুলোর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুরোনো ভবনের মেডিসিন বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি যে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনাটিকে নাশকতা বলে সন্দেহ করে কর্তৃপক্ষ। একই সন্দেহের কথা জানিয়েছে বরিশালের গণপূর্ত বিভাগও। প্রথমদিকে বোঝানো হয়েছিল যে ষাট বছরের এ পুরোনো ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ত্রুটি থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। এছাড়া এটিও ধারণা করা হয়েছিল যে তখন বৈদ্যুতিক চাহিদা নির্ধারণ করে বৈদ্যুতিক সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তা ষাট বছরের ব্যবধানে সেটি এখন অনেকগুণ বেড়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবারহের কারণেই হয়তো এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর এ ধারণা থেকে এখন সরে আসছে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ।
বরিশালের গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, একটি সমস্যা হচ্ছে যে এখানে বৈদ্যুতিক লাইন চালু থাকা অবস্থায় চোরচক্র তার চুরি করে নিয়ে যায়। যেমন: পরপর দুবার লিফটের তার চুরি হয়েছে যখন লিফট চালু ছিল। লিফট চালু থাকা অবস্থায় তার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ধারণা করছি, এটি পরিকল্পিতভাবে বা নাশকতার উদ্দেশ্যেই কেউ করেছে। বৈদ্যুতিক সরবরাহব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় যদি কেউ তার চুরি করে, সেক্ষেত্রে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটতেই পারে। ২০২৪ সালে মেডিসিন বিভাগের সম্মেলন কক্ষে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা আমরা সিসিটিভির ফুটেজেই দেখেছি। এটি আসলে নাশকতার চেষ্টা ছিল।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, দুবছরের মধ্যে যে আট-দশটি আগুনের ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে ২০২৪ সালের একটি ঘটনায় আমরা শর্ট সার্কিটের বিষয় পেয়েছি। বাকি কোনোটিতেই আমরা কোনো ফায়ার সোর্স পাচ্ছি না। তবে মেডিসিন বিভাগের সম্মেলন কক্ষসহ আরও কয়েকটি আগুনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে এটি কোনো নাশকতা। আমাদের পরিচালক এ বিষয়টি অবগত আছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে স্পষ্ট করে বলা যাবে যে এগুলো নাশকতা নাকি অন্য কোনো কিছু।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বদর দিবস ও সমকালীন বিশ্ব: ঈমানি শক্তিতে জেগে ওঠার আহ্বান