Home » পটুয়াখালী » পটুয়াখালী সদর » পটুয়াখালীতে নাম বিভ্রান্তিতে আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাভোগ করলেন জেলে
৭ September ২০২৬ Monday ১০:৫৮:০০ PM
পটুয়াখালীতে নাম বিভ্রান্তিতে আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাভোগ করলেন জেলে
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাগারে ছিলেন মো. জলিল হাওলাদার নামের এক জেলে। মামলার প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের নাম ও বাবার নাম একই হওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ে ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।তবে দুজনের মায়ের নাম ও গ্রামের নাম আলাদা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির দিন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার বাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়।
এ মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরোয়ানায় থাকা আসামির সঙ্গে তার নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে পরে যাচাই করে জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদার একই ব্যক্তি নন। তাদের নাম ও বাবার নাম একই হলেও মায়ের নাম ও গ্রামের নাম আলাদা। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা জলিলকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে।
জলিলের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মায়ের নাম ও গ্রামের নাম যাচাই করা হলে এ ভুল হতো না।
পটুয়াখালী জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, ‘মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। কিন্তু নাম ও পরিচয়ে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ আমার মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের আগে নামের পাশাপাশি বাবার নাম, মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য পরিচয় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি ও কারাভোগের মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম ও অন্যান্য পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর জলিলের জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়। সোমবার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল এড়াতে আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরোয়ানায় উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘প্রকৃত আসামির নাম ও বাবার নাম একই হওয়ায় ভুল করে তাকে আটক করা হয়েছে। পরোয়ানায় মায়ের নাম ও মোবাইল নম্বর না থাকায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)