![]() বিএম কলেজে অচলাবস্থাকর্মপরিষদের সশস্ত্র মহড়া, ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি নবাগত অধ্যক্ষ
৬ February ২০১৩ Wednesday ৮:১৬:৪৪ PM
![]() কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা কলেজের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়ায় এভাবেই দেয়াল টপকে কলেজ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হয় (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম) বরিশাল :: বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসের বদলি ঠেকাতে আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাস তালাবদ্ধ করে রেখেছে অস্থায়ী কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা। ফলে শিক্ষক ও সাধারন ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার নবাগত অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে কলেজে যোগদান করেছেন। জানা গেছে, নতুন অধ্যক্ষের যোগদান ঠেকাতে বুধবার সকাল থেকেই ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ক্যাম্পাসে পাহাড়া বসায় সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষের গঠন করে যাওয়া কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা। কলেজের সড়কের উপর করা হয় অগ্নিসংযোগ। এছাড়া আগে থেকেই তারা তালা ঝুলিয়েছে ক্যাম্পাসের চার প্রধান ফটকে। তাঁরা ক্যাম্পাসে সাধারন শিক্ষার্থীদের প্রবেশেও বাঁধা দেয়। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও বরিশালের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী হওয়ায় কর্মপরিষদের নেতাকর্মীদের অরাজকতায় পুলিশ তাদের কোন বাঁধাও দিচ্ছে না। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার কলেজের ২ শতাধিক সাধারন শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাসে আন্দোলনের নামে অরাজকতা বন্ধ এবং কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিএম কলেজের এক শ্রেনীর ছাত্রের অরাজকতার কারনে কলেজের শিক্ষার পরিবেশে নষ্ট হচ্ছে, সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধ্যক্ষের বদলীজনিত কারনে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারেনা, তেমনি নতুন অধ্যক্ষের যোগদানও বিলম্বিত হতে পারেনা। এ অবস্থায় কলেজের অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপি প্রদানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, কর্মপরিষদের কারনে কলেজে অচলাবস্থা চলতে থাকলে তারাও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। অধ্যক্ষের বদলী আদেশ প্রত্যাহারের আন্দোলন করছেন মেয়াদহীন অস্থায়ী ছাত্র কর্মপরিষদের সহ-সভাপতি মঈন তুষার এবং সাধারন সম্পাদক নাহিদ সেরনিয়াবাত ও তাদের অনুসারীরা। তারা দু’জনেই বরিশাল মহানগর আ’লীগের সভাপতি বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের অনুগত বলে নগরীতে পরিচিত। তবে আন্দোলনে নেতৃত্বের দেয়ার কথা অস্বীকার করে নাহিদ সেরনিয়াবাত বলেন, ‘ননী গোপাল স্যারকে যেভাবে বদলি করা হয়েছে তা দু:খজনক। তাই তার বদলি প্রত্যাহারের দাবীতে সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’ নবাগত অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্ত আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারী) ফ্যাক্সের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবরে যোগদান পত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে বিদায়ী অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস সম্প্রতি ফ্যাক্স করে আমার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এদিকে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাসের বদলীর আদেশ বাতিল করতে অনুরোধ জানিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, আর্থিক অনিয়ম ও অডিট আপত্তিসহ বিভিন্ন কারনে গত ৩০ জানুয়ারী বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসকে খুলনার বিএল কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শাস্তিমুলক বদলী করে। ৩ ফেব্রুয়ারী রোববারের মধ্যে তাকে বিএল কলেজে যোগদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ আদেশের খবর আসার সাথে সাথেই কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাস তার মেয়াদকালে বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র সংবিধান সংশোধন করে বরিশালের প্রভাবশালী এক নেতার অনুগত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিকল্প ছাত্র কর্ম পরিষদ গঠন করে বিতকির্ত হয়ে পড়েন। বিতর্কিত এ কর্মপরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অধ্যক্ষ কৌশলে ওই কমিটি বাতিল করেননি, আবার মেয়াদও বৃদ্ধি করেননি। আর এ সুযোগে কর্মপরিষদের নেতারা কলেজের ছাত্র সংসদের কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন। এ সম্পর্কিত পূর্বের সংবাদঃ সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

