বিএম কলেজে অচলাবস্থা কর্মপরিষদের অরাজকতার বিরুদ্ধে এবার শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি
 কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা কলেজের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়ায় এভাবেই দেয়াল টপকে কলেজ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হয় (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরিশাল :: বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসের বদলি ঠেকাতে আন্দোলনে নামা অস্থায়ী কর্মপরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরা। কলেজ ক্যাম্পাসে আন্দোলনের নামে অরাজকতা বন্ধ এবং কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবীতে ৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ২ শতাধীক শিক্ষার্থী এ স্মারকলিপি পেশ করে। অপরদিকে কর্মপরিষদ নেতাকর্মীরা গতকালও নতুন অধ্যক্ষের যোগদান ঠেকাতে কলেজের সকল গেট ও ভবন তালাবদ্ধ করে রাখে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিএম কলেজের এক শ্রেনীর ছাত্রের অরাজকতার কারনে কলেজের শিক্ষার পরিবেশে নষ্ট হচ্ছে, সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধ্যক্ষের বদলীজনিত কারনে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারেনা, তেমনি নতুন অধ্যক্ষের যোগদানও বিলম্বিত হতে পারেনা। এ অবস্থায় কলেজের অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপি প্রদানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, কর্মপরিষদের কারনে কলেজে অচলাবস্থা চলতে থাকলে তারাও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এদিকে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে আজও সকাল থেকে কর্মপরিষদের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী কলেজের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। তারা নতুন অধ্যক্ষের যোগদান ঠেকাতে কলেজের মসজিদ গেট, শহিদ মিনার গেট ও ফাষ্ট গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কলেজ গেটে তালা লাগানো থাকায় হলে থাকা শিক্ষার্থী ও কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এছাড়া আগে থেকেই তালা ঝুলছে প্রতিটি একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে। কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা এসময় হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তাদের সাথে যোগ দিতে চাপ দেয় বলে অভিযোগ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা ক্যাম্পাসে সাধারন শিক্ষার্থীদের প্রবেশেও বাঁধা দেয়। কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা তাদের কোন বাঁধা দেয়নি।
বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক মাকসুদ আলম মাসুদ জানান, বিদায়ী অধ্যক্ষের আর্থিক দুর্ণীতিতে অবৈধ কর্মপরিষদও জড়িত ছিলো। নিজেদের অপকর্ম প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তারা অধ্যক্ষের বদলী ঠেকানোর নাম করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে তুলছেন। তিনি শিক্ষার্থীরা পেশ করা স্মারকলিপির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এ অয়ৌক্তিক আন্দোলনের সমাপ্তি দাবি বরেন।
তবে মেয়াদোত্তির্ণ অস্থায়ী কর্মপরিষদের সহ-সভাপতি ও শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ন-আহ্বায়ক মঈন তুষার সাংবাদিকদের বলেন, কর্মপরিষদের নয়, অধ্যক্ষের বদলী প্রত্যাহার সাধারন শিক্ষার্থীদের দাবী। অধ্যক্ষকে পুনর্বহালে প্রয়োজনে কলেজ অচল করে দেয়া হবে।
সদ্যবিদায়ী অধ্যক্ষ প্রফেসর ননী গোপাল দাস আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, কলেজের প্রসাশনিক ভবনে প্রবেশ করতে না পারায় তিনি ফ্যাক্স করে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। তবে এখনই তিনি বিএল কলেজে যোগ দিবেন না। তার ট্রানজিটের জন্য (পুরাতন কর্মস্থল থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মধ্যবর্তী সময়) হাতে আরো ৭ দিন সময় আছে বলে জানান তিনি। এছাড়া তিনি বিএল কলেজে যোগদান না করে চিকিৎসাজনিত ছুটি নিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অপরদিকে ক্যাম্পাসে পুরাতন অধ্যক্ষের গঠন করা কর্মপরিষদের অরাজকতা চলতে থাকায় বিএম কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শংকর চন্দ্র দত্ত এখন পর্যন্ত কলেজে যোগদান করেননি।
এব্যাপারে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলাম আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ‘আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি। কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তের উপরই এখন সব কিছু নির্ভর করছে।’
এদিকে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাসের বদলীর আদেশ বাতিল করতে অনুরোধ জানিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আর্থিক অনিয়ম ও অডিট আপত্তিসহ বিভিন্ন কারনে গত ৩০ জানুয়ারী বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসকে খুলনার বিএল কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শাস্তিমুলক বদলী করে। ৩ ফেব্রুয়ারী রোববারের মধ্যে তাকে বিএল কলেজে যোগদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ আদেশের খবর আসার সাথে সাথেই কর্মপরিষদের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাস তার মেয়াদকালে বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র সংবিধান সংশোধন করে বরিশালের প্রভাবশালী এক নেতার অনুগত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিকল্প ছাত্র কর্ম পরিষদ গঠন করে বিতকির্ত হয়ে পড়েন। বিতর্কিত এ কর্মপরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অধ্যক্ষ কৌশলে ওই কমিটি বাতিল করেননি, আবার মেয়াদও বৃদ্ধি করেননি। আর এ সুযোগে কর্মপরিষদের নেতারা কলেজের ছাত্র সংসদের কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন।
এ সম্পর্কিত পূর্বের সংবাদঃ
বিএম কলেজে আন্দোলনের নামে কর্মপরিষদের অরাজকতা!
অধ্যক্ষর বদলী ঠেকাতে
শ্রেনীকক্ষে তালা ঝুলিয়ে কর্মপরিষদের সড়ক অবরোধ, ভাংচুর
কলেজ ভবনে তালা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
অধ্যক্ষের বদলী ঠেকাতে আন্দোলনে কর্মপরিষদ !
বিএম কলেজ অধ্যক্ষকে বদলী, ছাত্রলীগের একাংশের বিক্ষোভ
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতারা
‘অবৈধ কর্মপরিষদ গঠনের জন্য মেয়র ও অধ্যক্ষ দায়ী’
বাকসু’র সংবিধান সংশোধন করে
অনিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষের কর্ম পরিষদ গঠন!
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |