বামনায় সীমাহীন দুর্ভোগে বিচার প্রার্থীরা উপজেলা প্রতিনিধি, বামনা
বামনায় বিচার প্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কোট না থাকা, প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব সহ বেশ কিছু কারণে তারা এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
চার ইউনিয়ন বিশিষ্ট বামনা উপজেলার আয়তন ১০১ বর্গ কিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। অধিকাংশ জনসাধারণ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। পেশা বলতে চাষাবাদ ও কায়িকশ্রম ব্যতীত উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই।
এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শুরুতেই হয়রানি হয় এলাকার এক শ্রেনীর টাউট দ্বারা, যারা সব সময় সালিশ করে বেড়ায়। থানা পুলিশ, উকিল, মোক্তারদের সাথে যোগাযোগের কথা বলে অশিক্ষিত ও দরিদ্র জনসাধারণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। উপজেলা পদ্ধতি চালু হবার পর বামনাতে কোর্ট ছিল।
কিন্তু বর্তমানে কোর্ট না থাকার কারণে লোকজন সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় বামনার বিচার প্রার্থীদের জেলা সদরের কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। বামনা থেকে জেলা সদর বরগুনাতে যেতে তিন থেকে চার ঘন্টা সময় লাগে।
বিষখালী নদী পার হয়ে বদনীখালী থেকে বরগুনা যেতে অর্ধেক সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ ক্ষেএে সময় বাঁচানো গেলেও অর্থেও প্রয়োজন হয় বেশি।
এ জন্য দরিদ্র লোকজন বামনা সদর, বামনা লঞ্চঘাট থেকেই যাতায়ত কওে থাকে। বরিশাল থেকে বরগুনাগামী লঞ্চ বামনাতে আসে রাত দুইটা তিনটার মধ্যে; পরের দিন মামলার তারিখ বলে আদালত শুরুর পূর্বে পেীছার জন্য শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে বিচার প্রার্থীরা অবর্ণনীয় কষ্ঠ সহ্য করে জেলা শহরে উপস্থিত হয়।
পুলিশের কাছে বিচার প্রার্থনার ক্ষেত্র নিয়ে কথা হয় বামনা থানার বর্তমান ওসি মো. রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন,থানা পুলিশ দ্বারা মানুষ হয়রানির শিকার হয় না, হয়ে থাকলেও আমার অজান্তে, আমি এসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে আলোচনা করে এলাকাবাসীকে উদ্ধুদ্ধ করেছি, কোন দালাল বা মাধ্যম নয় সরাসরি আমার কাছে আসার জন্য।
বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মানজুরুর রব মূর্তাযা আহসান বলেন, যে সমস্যা নিয়ে বিরোধের উৎপত্তি জেলা শহরে গিয়ে সে সমস্যার সমাধান পেতে যে ব্যয় হয় তা বিরোধীয় সম্পত্তির তুলনায় অনেক বেশী। আমার পরিষদে যে সব দরখাস্ত আসে সেগুলো আমি মিমাংসা দিয়ে থাকি।
সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক |