দেড় মাসের মাথায় সংস্কার ‘মন্ত্রী আসবেন’ রাতারাতি পাল্টাচ্ছে শেবাচিম হাসপাতাল নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্ত্রী আসবেন তাই একটু পরিপাটি করে নতুন রুপে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চলছে ধোয়া মোছার কাজ। এককথায় হাইজেনিক ওয়াশ।
১৫ দিন সময়ের মধ্যে হাইজেনিক ওয়াশের কাজ করতে গিয়ে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, গণপূর্ত বিভাগসহ কয়েকজন ঠিকাদার ও তাদের শ্রমিকদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
দিন রাত ২৪ ঘন্টা চলছে হাইজেনিক ওয়াশের কাজ। আবার এসব কাজ পরিদর্শনে উর্ধতন কর্মকর্তারা বারে বারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। ভুলত্রুটি থাকলে তাও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম সাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে জানাগেছে, আগামী ১৮ আগষ্ট বরিশালে আসছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তার সাথে বেশ কয়েকজন সচিব এবং যুগ্ম সচিব থাকার কথা রয়েছে।
‘মন্ত্রী আসছেন’ এ খবরেই বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা সিউরে উঠেছেন।
শুধু কর্মকর্তারা নয়, মন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবী-দাওয়া তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এখানকার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সোমবার দুপুরে কলেজের সভা কক্ষে প্রস্তুতি সভাও সম্পন্ন করেছেন তারা।
এর আগে ৮ আগষ্ট থেকেই বরিশালের বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য পরিদর্শন স্খলের ভবন সংস্কার, ঘষা-মাঝা আর সৈন্দর্যবর্ধনের জন্য অনেকটা মিশনে নেমেছে কর্তারা।
বিশেষ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের উন্নয়নটা তো চোখে পড়ার মত।
জরুরী বিভাগের অপারেশন থিয়েটার। সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক অপারেশন টেবিল আর লাইট। ইতো মধ্যে নতুন টিকেট কাউন্টার স্থাপন করে সেখানে টিকেট বিক্রির কার্যক্রম চলছে। সাথে জরুরী বিভাগে আশে-পাশের স্যানেটরী ব্যবস্থা, ড্রেন, রাস্তা আর রাস্তার পাশের গিল সংস্কার ও ঘষামাঝার কাজ চলচ্ছে দ্রুত গতিতে।
পাশাপাশি হাসপাতালের নাম ফলকও নতুন রং এর ছোয়া লাগানো হচ্ছে। হাসপাতালের মুল ফটকের নতুন গেট লাগানো হচ্ছে। পরিছন্নতার জন্য দীর্ঘ দিন পর জাগ্রত হয়েছে হাসপাতালের অলস এমএলএসএস থেকে শুরু করে মালিরা। সল্প সময়ের জন্য বাগানে ফুটন্ত ফুলের গাছ আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
আবার কোন ঘষামাজা ছাড়াই রং এর ছোয়া লেগেছে দীর্ঘদিনের মরিচা পড়া সীমানা প্রাচীরের লোহার গ্রীল গুলোতে।
জুন মাসে জরুরী এসব স্খানের অনেক জায়গাতেই সংস্কার ও রং করা হয় । যে কাজ বাবদ গনর্পূত বিভাগ ঠিকাদারদের কয়েক লাখ টাকা পরিশোধও করেছে।
কিন্তু ঠিক এক মাসের মাথায় মন্ত্রী’র আগমন উপলক্ষ্যে আবারও রং ও সংস্কার কাজ চলছে।
বর্তমানে চলমান এ কাজের জন্য গণপূর্ত বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত কোন অর্থ ছাড় কিংবা দরপত্রের আহ্বান করা হয় নি।
এ ব্যপারে ঠিকাদারের সহকারী আমিনুল ইসলাম সোহাগ জানান- হাসপাতালের কোন কাজেই লোকসান নেই। ফান্ড আসলে খরচ উঠিয়ে নেয়া যাবে।
এ ব্যপারে গণপূর্ত উপ বিভাগের প্রকৌশলী (এসও) সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার জানান- মন্ত্রী আসবেন তাই একটু হাইজেনিক ওয়াশের কাজ চলছে। তবে এগুলো জরুরী কাজের একটি অংশ। উর্ধতন কর্তাদের নির্দেশেই ঠিকাদাররা এখন কাজ করছে পরে সার্ভে করে ফান্ড আসলে অর্থ পরিশোধ করা হবে। আর তিনি শুধু তদারকি করছেন।
আর জং ধরা গ্রিলে ঘষামাজা না করে রং ধরানোর বিষয়ে তিনি দ্রুত শেষ করতে হবে তাই ক্ষেত্র বিশেষ এমনটা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত মুকিমাবাদ ১০ শয্যা বিশিষ্ট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্ধোধনের কথা রয়ে্যেছ। তাই সেখানে ও ছুটছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমান।
জানাগেছে, সেবার মান বাড়ানো বা দক্ষিণের এ জনপদের মানুষের জন্য মন্ত্রীর কাছে দাবী তুলে ধরার চেয়ে মন্ত্রীর পরিদর্শনের নিদৃষ্ট কিছু স্থান ঝক-ঝকে সুন্দয্য বর্ধন দেখিয়েই মন্ত্রীকে মুগ্ধ করাই এদের প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম বলেন- যদিও সবই চলমান প্রকৃয়াার কাজ। এ কাজগুলো প্রতি অর্থবছরেই করা হয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী প্রথম বারের জন্য আসবে তাই অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সকল ধরনের খুটিনাটি বিষয়গুলো একসাথে মেরামত করা হচ্ছে। আর এ কাজে গণপূর্তবিভাগ আমাদের সহায়তা করছে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |