বিয়ে দেওয়ায় নিজ শরীরে আগুন দিলো কিশোরী নিজস্ব প্রতিবেদক
জোর করে বিয়ে দেওয়ায় মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে নিজের শরীরে আগুন দিয়েছে লিজা আক্তার (১৬) নামের বরিশালের উজিরপুরের স্কুলছাত্রী।
শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
সে উজিরপুর উপজেলার নারায়নপুর এলাকার বাসিন্দা কৃষক আনোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং মেহেরীগন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, লিজাকে সার্জারী-৩ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার রেজি. নং ১১২৬৬/৩৮। শেবাচিম হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রিয়াজুল ইসলাম জানান- লিজার শরীরের ৬০ ভাগ দগ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা আশংকাজনক। তাই শুক্রবার রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
লিজার মা মাসুমা বেগম জানান- কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী নূর ইসলামের ছেলে মিরাজের সঙ্গে জোর করে লিজার বিয়ে দেওয়া হয়। ১৮ আগস্ট সোমবার লিজাকে তার স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর কথা ছিল।
কিন্তু সেআরো লেখাপড়া করতে চেয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই লিজা অস্বাভাবিক আচারণ শুরু করে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তবে লিজার বাবা আনোয়ার হোসেন দাবী করেন- কিছুদিন ধরে লিজাকে জিনে আছড় করছে। তাকে বিভিন্ন ফকিরের কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উজিরপুর থানার পুলিশ জানায় বাল্য বিয়ে এবং শরীরে আগুনের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |